
জেলা প্রতিনিধি:
পার্বতীপুরের মোস্তফাপুর ইউনিয়নের কালিরহাট ছোট চন্ডিপুর গ্রামের স্কুল ছাত্রী পল্লবী রানী রায় (১৪) ও তার মা ছবি রানী রায় (৩৫) আত্নহত্যার ঘটনাকে রহস্য জনক দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের ¯^জনরা| তারা আত্মহত্যকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে অভিযোগ করেছেন|
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে নিহতের ¯^জনদের বাড়ী হাবড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে সাংবাদিকদের মাঝে লিখিত বক্তব্য এ অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, নিহত গৃহবধুর ভাই উজ্জ্বল চন্দ্র রায়| গৃহকর্তা রিপেন চন্দ্র রায তার পরকীয়া প্রেমেকাকে ঘরে তুলতে পরিকল্পিত ভাবে মা-মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা|
জানাযায়, পল্লবী রানী স্থানীয় গোল্ডেন হোপ রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের নবম শ্রেনীর ছাত্রী ছিল| সেই সুবাদে একই শ্রেনীর ছাত্র পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ী উপজেলার এ্যালুবাড়ী ইউনিয়নের দুজারপুর গ্রামের আনন্দ চন্দ্র রায়ের ছেলে গৌর চন্দ্র রায়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে| গৌর চন্দ্র গত ১৯ জুন পল্লবী রানীকে নিয়ে ঢাকায় পালিয়ে যায়| সেখানে বিয়েও করেন তারা| এ সময় পল্লবীর মা ছবি রানীও মেয়ের সাথে ঢাকায় ছিল| এ দিকে মা-মেয়ে বাড়ীতে না পেয়ে পার্বতীপুর মডেল থানায় অভিযোগ করেন রিপেন চন্দ্র রায়|
গত ২৬ জুন পুলিশ ঢাকা থেকে তিন জনকে উদ্ধার করে নিয়ে এসে ছেলে-মেয়েকে উভয় পরিবারের হাতে তুলে দেন|
অপর দিকে নিহতের ভাই উজ্জল চন্দ্র রায় ও তার ¯সজনরা দাবি করে বলেন, “রিপেন চন্দ্র রায়ের সাথে একই গ্রামের এক বিধবা নারী’র পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল| এ নিয়ে তার বোনের সাথে প্রায় সময় পারিবারিক কলহ চলতো| এ কারনে সে তার বোন ও ভাগনিকে হত্যা করে আত্নহত্যার প্রচারনা চালিয়েছে| এর সাথে সহযোগি হিসেবে একই গ্রামের দুজন ব্যক্তি জড়িত আছে বলে উল্লেখ করেন| আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আত্মহত্যার কোন আলামত খুঁজে পাই নাই| তারা প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন|’’
নিহত ছবি রানীর ভাতিজা মানস কুমার বলেন, “তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ ফাঁস থেকে নামানো অবস্থায় দেখেছেন| ঘটনাটি হতাকান্ড মনে হয়েছে|’’
অপর দিকে রিপেন চন্দ্র রায়ের ভাই গৌতম চন্দ্র রায় বলেন, “গত তিন দিন আগে একটি আইডি থেকে অশ্লীল ভিডিও পোষ্ট করেছিল একজন| এ ঘটনায় লোক লজ্জায় তার বউদি ও ভাজতী আত্মহত্যা করে থাকতে পারে|’’
পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, “নিহত মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত করা হয়েছে| রিপোর্ট আসার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে| তার পরেও পুলিশ বিভিন্ন কুলু উদ্ধারের চেষ্টা করছে|’’

