
যশোর প্রতিনিধি :
টানা অতি বর্ষণে যশোরের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও ফসলি জমি। চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। জলাবদ্ধতার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বহু শ্রমজীবী, অনেকের ঘরেই এখন ‘নুন আনতে পান্তা ফুরানো’র দশা। কিন্তু প্রকৃতির এই দুর্যোগেও এতটুকু কমেনি ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) কিস্তির চাপ। কাজ না থাকলেও, ঘরে খাবার না থাকলেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিয়মিত সাপ্তাহিক ও মাসিক কিস্তি তুলছেন এনজিও কর্মীরা।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চারদিকে পানি থৈ থৈ করায় তারা কাজে বের হতে পারছেন না। আয়-রোজগার সম্পূর্ণ বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের খাবার জোগাড় করাই যেখানে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে এনজিওর কিস্তির টাকা শোধ করা তাদের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় কিস্তি দিতে না পেরে চড়া সুদে ধারদেনা করতে হচ্ছে, আবার কেউ কেউ ঘরের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এই দুর্যোগের সময়েও কিস্তি আদায়ে এনজিওগুলোর কোনো মানবিকতা বা ছাড় নেই।
শুধু ঋণগ্রহীতারাই নন, চরম মানসিক চাপে রয়েছেন মাঠ পর্যায়ের এনজিও কর্মীরাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এনজিও কর্মী ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “এত বৃষ্টির ভেতরে কাদার মধ্যে হেঁটে আমাদেরও কিস্তি তুলতে যেতে হচ্ছে, আমাদেরও কোনো নিস্তার নেই। ওপর থেকে কড়া নির্দেশ—টাকা আনতেই হবে। মানুষ কী কষ্টে আছে তা আমরা নিজের চোখে দেখছি, কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী টাকা তুলতে না পারলে নিজেদের পকেট থেকে সেই টাকা জমা দিতে হয়। ওপরের চাপের কারণেই আমরা বাধ্য হয়ে মানুষের ওপর চাপ দিচ্ছি।”
ভুক্তভোগী ও যশোরের সাধারণ জনগণের দাবি, দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে অন্তত এক সপ্তাহের জন্য হলেও এনজিওগুলোর কিস্তি আদায় কার্যক্রম স্থগিত বা ‘দুর্যোগ ঘোষণা’ করা হোক। সাময়িকভাবে কিস্তি নেওয়া বন্ধ রাখলে এই চরম সংকটকালে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারতেন। বর্তমান মানবিক বিপর্যয়ের কথা বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন ও এনজিও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন যশোরের আপামর জনসাধারণ।

