
মুসলিম উদ্দীন, –
“বাপ মাত্র জন্ম দিলো
গুরু দিলো জ্ঞান,
অন্ধকারের তরে যেন
দিলো চক্ষু দান “।
শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত শ্রদ্ধেয়া প্রধান শিক্ষিকার নাম কাবেরী করিম।
তাঁর স্কুলেরই তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী বিসমাহ জান্নাত ঐশ্বর্য স্কুলের অ্যাসেম্বলি চলাকালীন সময় তার এক সহপাঠীর সাথে দুষ্টুমির পাশাপাশি কথা বলছিলো। বিষয়টি গোচরীভূত হওয়ার পর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম তাকে শাসন করেন এবং সম্ভবত গালে একটি চড় মারেন।
মায়ের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন বাবা সামস উর রহমান শুভ।
পরবর্তীতে তিনি স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষিকার অফিসকক্ষে ঢুকে অসৌজন্যমুলক আচরণ করেই শুধু ক্ষান্ত হননি, চরম উত্তেজিত হয়ে গিয়ে চেয়ারে বসা প্রধান শিক্ষিকার গায়ে হাত তুলেন।
এ সময় উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী তাকে নিবৃত্ত করে কক্ষের বাইরে নিয়ে যান।
সন্তান তুল্য ছাত্রছাত্রীদের আদরের পাশাপাশি শাসন করাও শিক্ষকদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সেক্ষেত্রে শাসনের পদ্ধতি নিয়ে কারো দ্বিমত কিংবা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারতো।
আমাদের মাথায় রাখা উচিত,ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল শিক্ষকই আমাদের মাথার মুকুট। এ সমাজে বাস করা প্রতিটা শিক্ষককে সামাজিকভাবে সম্মানের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
আমি আমার প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষা জীবনে একাধিকবার স্যারদের হাতে মার খেয়েছি। এক এক বেতের বাডিতে হাতের, পীঠের চামড়া ছিলে যেতো। মার খাওয়া কালীন অনেক সময় কেঁদেছিও। কিন্তু হলফ করে বলতে পারি,কখনও স্যারের চোখের দিকে তাকানোর দুঃসাহস দেখাইনি।
আমি সেই সৌভাগ্যবানদের একজন,যার বিয়ের এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠানে আমার প্রাইমারি, মাধ্যমিক এবং কলেজের জীবনের স্যাররা উপস্থিত থেকে আমাদের জন্য প্রাণভরে দোয়া করেছেন।
শিক্ষাজীবন কালীন সময়ের সকল স্যারদের প্রতি সমসম্মান এবং শ্রদ্ধা জানাই। জীবিত স্যারদের শারীরিক সুস্থতার সহিত নেক হায়াত কামনা করছি এবং পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়া স্যারদের জন্য জান্নাত/স্বর্গ কামনা করছি পরম করুণাময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে।
আমিন ইয়া রাব্বুল আলামীন। আমি সামস উর রহমান শুভ’র দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

