
নিজস্ব প্রতিবেদক,
মোঃ সানোয়ার হোসেন,পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : নেত্রকোনার পূর্বধলা সদর বাজারের ব্যবসায়ীদের সংগঠন পূর্বধলা বাজার বণিক সমিতির কমিটির মেয়াদ ছিল তিন বছর। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও প্রায় তিন বছর অতিবাহিত হলেও এখনো নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ তিনজন সদস্য ইতোমধ্যে মারা গেছেন। ফলে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন মালুকে সভাপতি রেখে এবং ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদ আকন্দের নেতৃত্বে সংগঠনের কার্যক্রম কোনো রকমে পরিচালিত হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষের পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনা তদারকিতে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, ২০২০ সালের শেষ দিকে তৎকালীন সময়ে দলীয় বিবেচনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন মালুকে সভাপতি এবং পূর্বধলা পাটবাজারের ব্যবসায়ী মো. সাইফুদ্দিন শাহীনকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন বছর মেয়াদি ৩৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে দলীয় বিবেচনায় ব্যবসায়ী নন—এমন ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটি গঠনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুদ্দিন শাহীন, দ্বিতীয় সহসভাপতি ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান রুকু এবং সম্মানিত সদস্য মো. কামাল আকন্দ মারা গেছেন।
এরপরও সভাপতি এরশাদ হোসেন মালুকে বহাল রেখে ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদ আকন্দ এবং অর্থ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরীর মাধ্যমে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীরা সংগঠনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে নানা সমস্যা থাকলেও সেগুলোর কার্যকর সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। বাজারের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও অধিকাংশই বর্তমানে অচল। রাতের বেলায় আলোর ব্যবস্থা থাকলেও অনেক স্থানের বাতি জ্বলে না। বড় বড় মার্কেটের মালিকরা নিয়মিত ভাড়া আদায় করলেও রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেন না।
এছাড়া বাজারের সড়ক নিয়মিত পরিষ্কার না করায় ময়লা-আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ ছড়ায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থারও কার্যকর উন্নয়ন না হওয়ায় বিশেষ করে বর্ষাকালে কাঁচাবাজারে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
পূর্বধলা বাজারে ছোট-বড় প্রায় এক হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও পর্যাপ্ত নৈশপ্রহরীর ব্যবস্থা নেই। পুরো বাজারে ১২ জন নৈশপ্রহরী প্রয়োজন হলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র সাতজন। অভিযোগ রয়েছে, বণিক সমিতির চাঁদাও অনেক ব্যবসায়ী নিয়মিত পরিশোধ করেন না। ফলে নৈশপ্রহরীদের বেতন-ভাতা পরিশোধেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
পূর্বধলা বাজারের ব্যবসায়ী ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার আজাদ বলেন, “পূর্বধলা বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে একটি কার্যকর কমিটির বিকল্প নেই। তাই বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ বণিক সমিতির কমিটি বিলুপ্ত করে দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করা উচিত।”
পূর্বধলা বাজার বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদ আকন্দ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে সংগঠনের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নতুন কমিটি গঠনে কেউ এগিয়ে আসছেন না। তবে খুব শিগগিরই পুরোনো কমিটি বিলুপ্ত করে পূর্ণাঙ্গ নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “নিয়মিত বাজার কমিটি না থাকায় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করতে সমস্যা হচ্ছে। ফলে বাজারের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে। তাই দ্রুত একটি নিয়মিত কমিটি গঠনের আহ্বান জানাই।”
পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ বাবুল আলম তালুকদার বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের পরও পূর্বধলা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি পদে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের সাধারণ সম্পাদক বহাল থাকাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটি কার্যকর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।”

