
কবির হোসেন রাকিব, (লক্ষ্মীপুর):
লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র হাজিরহাট বাজার এখন চরম জনদুর্ভোগের শিকার। বাজারে সুনির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং স্টেশন বা ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট ভাগাড় না থাকায় চারপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। তার ওপর চলতি গরম মৌসুমের বৃষ্টিতে বাজারের জারিদোনা শাখা খালটি ভরাট হয়ে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। খালের পচা পানি আর ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা, পথচারী এবং স্কুল-কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের চলাচল এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাজিরহাট বাজারের উত্তর মাথা, দক্ষিণ মাথা এবং পশ্চিম বাজার এলাকায় প্রতিদিনের জবাই করা পশুর বর্জ্য, পচা শাকসবজি এবং প্লাস্টিকসহ টন টন বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলে রাখা হচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট ডাম্পিং জোন বা বর্জ্য অপসারণের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় পুরো বাজার এলাকা এখন যেন একেকটি উন্মুক্ত ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে।
এদিকে, বাজারের বুক চিরে বয়ে যাওয়া জারিদোনা শাখা খালটিতে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে সেটি নাব্যতা হারিয়েছে। বর্তমান গরম মৌসুমের আকস্মিক বৃষ্টিতে খালটিতে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আবর্জনা পচা এই কালো পানি আর তীব্র ঝাঁঝালো দুর্গন্ধে পুরো বাজারের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাজিরহাট উপজেলার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে আসেন। কিন্তু ময়লার দুর্গন্ধে বাজারে ৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ মাথায় ময়লার স্তূপের কারণে দম বন্ধ করা পরিবেশ তৈরি হয়েছে।”
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয় স্কুল ও কলেজের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা। প্রতিদিন এই দুর্গন্ধযুক্ত পথ পাড়ি দিয়ে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, দীর্ঘক্ষণ এই দূষিত পরিবেশ ও দুর্গন্ধের মধ্যে থাকার কারণে শিক্ষার্থী, বয়োবৃদ্ধ এবং শিশুরা প্রতিনিয়ত শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “হাজিরহাট বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আমরা আন্তরিক। বাজার কমিটিকে ময়লা ফেলার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো জায়গা দিতে না পারায় স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন বা ময়লার ভাগাড় নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। জায়গা চূড়ান্ত হলেই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী হাজিরহাট বাজারের বর্জ্য অপসারণের জন্য বাজার কমিটির সহযোগিতায় একটি নির্দিষ্ট ভাগাড় নির্মাণ এবং জারিদোনা শাখা খালটি জরুরি ভিত্তিতে খনন করে জলাবদ্ধতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

