
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজারে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আজ সোমবার (০৬ জুলাই) বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন।
এই উচ্ছেদ অভিযানে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সিনিয়র সহকারী কমিশনারের নেতৃত্বে পুলিশ, র্যাব, ডিবি পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে প্রশাসনের বিপুলসংখ্যক সদস্য অংশ নেন।
সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে চার থেকে পাঁচশ দোকানঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। উচ্ছেদের ফলে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের পুঁজি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হওয়ায় বাজারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বাঙ্গরা বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, “আমরা কিস্তি, লোন এবং চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। আজ সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমরা পথে বসে গেছি, ছেলে-মেয়ে নিয়ে কীভাবে ডাল-ভাত খাবো, আর ঋণের টাকাই বা কীভাবে শোধ করবো?”
একাধিক ব্যবসায়ী উচ্ছেদ অভিযানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তারা অভিযোগ করেন, “নবী নগর থেকে কোম্পানিগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে সওজের জায়গায় হাজার হাজার মানুষ অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে আছে। সেখানে কেন উচ্ছেদ নেই? শুধু বাঙ্গরা বাজারকেই কেন বারবার টার্গেট করা হচ্ছে?
এর পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না তা নিয়ে আমরা সন্দিহান।”
তবে বাজারের সচেতন মহলের কেউ কেউ আবার ভিন্নমত পোষণ করছেন। তাদের মতে, “কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির কাড়াকাড়ি আর অপরিকল্পিত দখলের কারণেই আজ পুরো বাজারটির এই ধ্বংসাত্মক দশা হয়েছে।”
প্রশাসনের কঠোর অবস্থান
গতকাল রবিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এল.এ শাখা) মানস চন্দ্র দাস এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিযানের সময় বাজারের ব্যবসায়ীদের আতঙ্কিত হতে দেখা গেলেও, প্রশাসন তাদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য পূর্বেই সতর্কতা জারি করেছিল।
স্থানীয়দের দাবি, উচ্ছেদ অভিযান যদি করতেই হয়, তবে তা বৈষম্যহীনভাবে পুরো উপজেলার সব অবৈধ স্থাপনায় সমানভাবে চালানো হোক।
নির্দিষ্ট একটি বাজারকে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত না করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও দাবি করেছেন অনেকে।
বর্তমানে বাং গরা বাজারের পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও উচ্ছেদ পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ও ঋণের বোঝা কীভাবে মেটাবেন—তা নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে।

