
আফতাবুল ইসলাম মেহরাব
চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী বড়স্টেশন পাইকারি মাছ বাজারে প্রায় ৩ কেজি (২ কেজি ৯৯০ গ্রাম) ওজনের একটি বড় আকারের ইলিশ মাছ বিক্রি হয়েছে ২২ হাজার ৭৯৮ টাকায়। মৌসুমের শুরুতেই এত উচ্চমূল্যে একটি ইলিশ বিক্রি হওয়ায় মাছ ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার মেঘনা নদীতে জেলে সুজনের জালে ধরা পড়ে বিশাল আকৃতির এই ইলিশ। পরে বেশি দামের আশায় মাছটি চাঁদপুরের সরকারি বড়স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের পাইকারি বাজারে আনা হয়।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে মাছটি নিলামে তোলা হলে রাজধানীর অনিক নামে এক ব্যবসায়ী এটি ২২ হাজার ৭৯৮ টাকায় কিনে নেন। তবে কিছু সংবাদমাধ্যমে ক্রেতার নাম মো. হাবিব বলেও উল্লেখ করা হয়েছে, যা তথ্যসূত্রভেদে ভিন্নতা নির্দেশ করে।
চাঁদপুর বড়স্টেশনের শান্তি আড়তের ব্যবসায়ী সম্রাট ব্যাপারী জানান, মাছটির ওজন ছিল ২ কেজি ৯৯০ গ্রাম। প্রতি মণের দাম ওঠে ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম দাঁড়ায় ৭ হাজার ৬২৫ টাকা। তিনি বলেন, বড় আকারের ইলিশের সরবরাহ খুবই সীমিত, অথচ এমন মাছের চাহিদা অনেক বেশি। তাই ব্যতিক্রমী দাম পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এখনও ইলিশের ভরা মৌসুম শুরু হয়নি। দক্ষিণাঞ্চলের সাগর ও নদ-নদীতে ইলিশ ধরা পড়লেও বড় আকারের মাছের সংখ্যা কম। ফলে বড় ইলিশ বাজারে এলেই তা উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। মৌসুম পুরোদমে শুরু হলে সরবরাহ বাড়বে এবং দামও কিছুটা কমতে পারে।
এর আগে চাঁদপুরের মাছ বাজারে ইলিশের আমদানি কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে যাওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমানে বাজারে প্রতিদিন খুব অল্প পরিমাণ ইলিশ আসছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বড় আকারের ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকতেই পারে।
মৌসুমের শুরুতেই প্রায় ২৩ হাজার টাকায় একটি ইলিশ বিক্রির ঘটনাটি এবার দেশের মাছের বাজারে অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে উঠেছে।

