
সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে নামজারি (খারিজ) ও জমাখারিজের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এই প্রতারক চক্রের অপতৎপরতা রুখতে এবং জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে গত বুধবার বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে উপজেলা ভূমি অফিস।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ভূমি সেবার নাম করে একটি প্রতারক চক্র সেবাগ্রহীতাদের বিভ্রান্ত করছে। তারা নামজারি দ্রুত করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোথাও কোথাও লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করছে, যা ভূমি অফিসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সেবার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নামজারি ও জমাখারিজের পুরো প্রক্রিয়া বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এর জন্য সরকারি নির্ধারিত ফি হলো আবেদন ফি ৭০ টাকা এবং নামজারি অনুমোদন ফি ১ হাজার ১০০ টাকা। অর্থাৎ, মোট ১ হাজার ১৭০ টাকার বাইরে কোনো অর্থ পরিশোধ করার প্রয়োজন নেই।
ভুক্তভোগীদের সচেতন করতে বাঞ্ছারামপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, “উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারির ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত একটি টাকাও দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ ভূমি অফিসের নাম ব্যবহার করে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অথবা উপজেলা ভূমি অফিসকে জানান”।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই প্রতারকদের সঙ্গে ভূমি অফিসের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। প্রতারকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার কৃষক মো. আজাদ মিয়ার মতো সচেতন নাগরিকরা সরকারি নির্ধারিত ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা পরিশোধ করেই নিয়ম অনুযায়ী তাদের কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন।

