
মোঃ মোনাহার মিয়া
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর গ্রামে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে একটি বসতবাড়িতে বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীদের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে একই পরিবারের বৃদ্ধা নারীসহ অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত ৩০ জুন সকাল আনুমানিক ১০:০০ ঘটিকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মোছাঃ কুলসুম বেগম (৬৫) বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বগারচর গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ কুলসুম বেগমের পরিবারের সাথে স্থানীয় প্রতিবেশীদের জায়গা-জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন কুলসুম বেগমের নিজ জায়গায় ঘর উত্তোলনকে কেন্দ্র করে একই এলাকার বাসিন্দা মোঃ ওায়াদু (৪৫), মোঃ মামুন মিয়া (৩৫), মোঃ মোস্তফা (৪৫), মোঃ ফরহাদ (৩০), মোঃ বদু মিয়া (৪৫) এবং মোঃ শাহিদুর (৭০) সহ একদল লোক লাঠি, লোহার সাবল, ও ধারালো দা-সহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনিভাবে তাদের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে।
আসামিরা বাড়িতে ঢুকেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করলে কুলসুম বেগম তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ১নং আসামি ওায়াদুর প্রত্যক্ষ হুকুমে হামলাকারীরা বৃদ্ধা কুলসুম বেগমকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। ২নং আসামি মামুন মিয়া বৃদ্ধার দুই চোখের নিচে ঘুষি মারে এবং একটি সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে পিঠে আঘাত করে কালচে ফুলা জখম করে।
বৃদ্ধার চিৎকার শুনে তার ছেলে মোঃ ইব্রাহিম (৪২) এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকেও মাটিতে ফেলে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। একপর্যায়ে ৪নং আসামি ফরহাদ তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে ইব্রাহিমের ডান পায়ের পাতায় কোপ মেরে গভীর রক্তাক্ত কাটা জখম করে।
এরপর ইব্রাহিমের স্ত্রী ফুলেছা বেগম (৩৮) স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ৩নং আসামি মোস্তফা তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে এবং ২নং আসামি মামুন মিয়া তার পরনের কাপড় ও চুল টেনে শ্লীলতাহানি ঘটায়। এ সময় ফুলেছা বেগমের কান থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ৫ আনা ওজনের সোনার রিং জোরপূর্বক টেনে ছিঁড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলাকারীরা শুধু মারধর ও শ্লীলতাহানি করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা ঘরের ভেতরে ঢুকে ব্যবসার জন্য ট্রাংকে রাখা নগদ ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা এবং মালামালসহ পুরো ট্রাংকটি চুরি করে নিয়ে যায়। হামলা ও ভাঙচুরে ঘরবাড়ির প্রায় ১ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। যাওয়ার সময় আসামিরা মামলা করলে ভুক্তভোগীদের খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় কুলসুম বেগম ও তার পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসাধীন থাকার কারণে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগপত্রটি পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

