
মোঃ জাহিদ হোসেন জিমু
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালি পিয়ারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোস্তম আলী মন্ডলের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি, অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং নিজ সন্তানকে হত্যার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিচার দাবিতে আজ মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগী সাবেক স্ত্রী শাহানা বেগম বিদ্যালয়ে হাজির হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর তীব্র আন্দোলনের মুখে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে পদত্যাগপত্র লিখে নেয় জনতা।
পরবর্তীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগী শাহানা বেগমের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার জয়নাল আবেদিনের মেয়ে শাহানা বেগমের সাথে গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন প্রধান শিক্ষক রোস্তম আলী। বিয়ের পর গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় থাকাকালে নানা কৌশলে শাহানার পূর্বের স্বামীর জমি বিক্রির ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।
শাহানা বেগম অভিযোগ করেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকেই প্রধান শিক্ষক তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাতে থাকেন। গত ১৮ জানুয়ারি তাদের একটি সন্তান জন্ম নেওয়ার পরপরই রোস্তম আলী পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে হত্যা করেন। ঘটনার আলামত নষ্ট করতে কোনো ধর্মীয় রীতি বা নিয়মের তোয়াক্কা না করে গাইবান্ধা পৌর গোরস্থানে তড়িঘড়ি করে শিশুটিকে দাফন করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
এসব অভিযোগের বিচার দাবিতে আজ সকালে শাহানা বেগম পিয়ারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শত শত মানুষ স্কুল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে প্রধান শিক্ষকের বিচার ও পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। উত্তাল পরিস্থিতিতে প্রধান শিক্ষককে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে জনতা বাধ্য হয়ে বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল প্যাডে তার পদত্যাগপত্র লিখে নেয়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গাইবান্ধা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম বাবু এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ও অভিযোগকারী শাহানা বেগমকে থানায় নিয়ে আসেন।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম বাবু বলেন, “অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে দেখছি। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২১ সালে পিয়ারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই রোস্তম আলীর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের আর্থিক অনিয়ম ও একাধিক নারীঘটিত কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। বারবার অভিযোগ উঠলেও রহস্যজনক কারণে তিনি প্রতিবারই পার পেয়ে গেছেন। এবার তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

