
নাছিরুল হক,
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ৯ নং কুশদহ ইউনিয়নের বেতেরভাঙা ও ১ নং জয়পুর ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামের মধ্যে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি এখন কার্যত অকেজো। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে।
শনিবার (২৭ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কয়েক বছর আগে এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তবে উদ্বোধনের অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ও মাটি ধসে যায়। এরপর থেকে সেতুটি আর ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।
বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক কাদাময় হয়ে যানবাহন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
স্থানীয় পথচারী হিটলার বলেন, “বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। দূর থেকে বোঝার উপায় থাকে না এটি রাস্তা, নাকি খাল। এখনো রাস্তাজুড়ে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ রয়েছে। কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। বাধ্য হয়ে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হয়, এতে সময় ও ভোগান্তি দুটোই বাড়ছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “বিগত সরকারের সময় গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে এক বছরের মধ্যেই সেতুর দুই পাশ ভেঙে যায়। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক পুনর্নির্মাণ ও সেতুটি ব্যবহার উপযোগী করে জনদুর্ভোগ দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা সংস্কার করা না হলে দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

