
আল মুজাহিদ,
যশোরের চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের পিতম্বরপুর গ্রামের বেড় গোবিন্দপুর বাওড় এলাকা থেকে আতিয়ার রহমান (৪৪) নামে এক বাওড় গার্ডের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে।
নিহত আতিয়ার রহমান উপজেলার লস্করপুর গ্রামের সাবেদ আলী মন্ডলের ছেলে। তিনি বেড় গোবিন্দপুর বাওড়ে গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২০ জুন) সকাল থেকে আতিয়ার রহমান নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে রবিবার (২১ জুন) বিকেল ৫টার দিকে তার ভাতিজা হাসান বেড় গোবিন্দপুর বাওড়ের একটি ক্যানেলে কচুরিপানার নিচে পানিতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ দেখতে পান। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।
স্থানীয়দের ধারণা, পূর্ব শত্রুতার জেরে দুর্বৃত্তরা আতিয়ার রহমানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা ও পেটে আঘাত করে হত্যা করেছে। এছাড়া তার পিঠের ডান পাশে বগলের নিচেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যার পর মরদেহ কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশিদ, পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল আমিন সিকদারসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ধুলিয়ানী ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের হাফিজুরের ছেলে ওসমান (৩০) এবং চৌগাছা ইউনিয়নের লস্করপুর গ্রামের সফেদ আলী মন্ডলের ছেলে রাশেদ (৩৮)-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
চৌগাছা থানার পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

