
নাসরিন আক্তার-বরগুনা :
বরগুনায় ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে মহসিন কাজী ( ৪০ ) নামে একজনকে মৃত্যুদন্ডের (ফাঁসি ) রায় দিয়েছে এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ০১ (এক) বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর দুপুর ১২ টার সময় বরগুনা (জেলা দায়রা জজ)নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক লায়লাতুল ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মহসিন বরগুনার বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি ৯ নং ওয়ার্ডের মৃত: ওহাব কাজীর ছেলে।
রায় ঘোষণাার আগে বিচারক লায়লাতুল ফেরদৌস মামলার বর্ণনায় বলেন, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সকাল ০৭.৩৫ মিনিটের সময় ১২ বছরের শিশু প্রতিদিনের ন্যায় মক্তবে আরবি পড়তে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে আসামি মহসিন তাকে চাকুর ভয় দেখিয়ে মুখ চেপে খালের পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে হাত ফাতড়া দিয়ে বেঁধে কলাপাতার উপরে শুইয়ে ধর্ষণ করে। দর্শনের পর শিশুটিকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে মক্তবে পড়তে যাওয়ার কথা বলে। ধর্ষণের শিকার হওয়া ওই শিশুটি মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিল যে মক্তবে পড়ার মানসিকতা তার ছিল না। তাই তিনি আবার বাড়ি ফিরেছিলেন। বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণকারী তার পথের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। সেখানেও তাকে আবারো মৃত্যুর ভয় দেখায় এবং বলে এই ঘটনা কাউকে বললে তোমাকে মেরে ফেলা হবে। মেয়েটি বাড়ি গিয়ে তার পরিবারের সাথে ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরিবারের লোকজন এ ঘটনার আলোচনা করে, সর্বশেষ সিদ্ধান্তে তারা বেতাগী থানায় গিয়ে মহসিনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। মামলার সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদনেও আসামি অভিযুক্ত প্রমাণিত হয়।
তিনি আরো বলেন, মেয়েটি সম্পর্কে ধর্ষণকারীর ভাতিজি হন। কাছাকাছি বাড়ি হওয়ায় তাকে চাচা বলে ডাকতো। এবং লতায়-পাতায় পেঁচানো তারা আত্মীয়। একটা ১২ বছরের ছোট্ট শিশুর সাথে এরকম একটি অমানুষিক কাজ করেছে যা দেশের চোখে এবং আইনের চোখে জঘন্যতম একটি অপরাধ, যে অপরাধের সর্বোচ্চ বিচার ফাঁসি। তাই এরকম জঘন্যতম অপরাধ করার আগে মানুষ যেন, একবার হলেও ভাবে, সেজন্য এ মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এ রায় যেন বহল থেকে ফাঁসি কার্যকর করা হয় এমনটাই দাবি থাকবে উচ্চ আদালতের প্রতি।
মামলার বাদী মাফুজা বেগম রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করে বলেন, আদালতের মাধ্যমে আমি ন্যায় বিচার পেয়েছি। এই রায় শোনার পর এ ধরনের অপরাধ করতে ভয় পাবে অপরাধীরা। তাই আমি আদালতের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

