
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জুয়েল,
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য লোকমান আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৯ জুন) মধ্যরাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের বাগজুর গ্রামের বাসিন্দা এবং রমজান আলীর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার একটি আদালতে দায়ের হওয়া মামলায় লোকমান আলীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই পরোয়ানা বাস্তবায়নে কুলাউড়া থানা পুলিশের একটি দল শুক্রবার রাতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
লোকমান আলীর গ্রেপ্তারের ঘটনায় শরীফপুর ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তিনি একজন জনপ্রিয় ও জনসম্পৃক্ত জনপ্রতিনিধি; রাজনৈতিক কারণেই তাকে একটি মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
সমর্থকদের মতে, সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে লোকমান আলীকে সহজেই পাশে পাওয়া যেত। ফলে এলাকায় তিনি গণমুখী প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে স্থানীয় আরেকটি পক্ষ বলছে, অতীতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই লোকমান আলীকে আটক করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
ইউপি সদস্য লোকমান আলীর গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সমর্থকদের মুক্তির দাবির পাশাপাশি মামলার আইনি দিক নিয়েও চলছে নানা আলোচনা।

