
নিজস্ব প্রতিবেদক :
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা–সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাজনৈতিক দল পরিবর্তন, ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং নমিনেশন বাণিজ্যের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে—যা ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির উচ্চপর্যায়েও পৌঁছেছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
৮১২ কোটি টাকার দুদক অনুসন্ধানের অভিযোগ
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের একটি বৃহৎ প্রকল্পে লুৎফুল্লাহেল মাজেদ প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই প্রকল্পে প্রায় ৮১২ কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে বলে একাধিক জাতীয় দৈনিক সংবাদ প্রকাশ করেছে।
প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ইত্তেফাক, আমার দেশসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি পত্রিকাই এ সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা ও প্রকল্প পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতার দাবি—লুৎফুল্লাহেল মাজেদের সাথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক সুবিধা ও ব্যক্তিগত স্বার্থে বিভিন্ন সময় তিনি ক্ষমতাসীন শিবিরের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ রেখেছেন।
জাতীয় পার্টির পুরনো সদস্য, পদত্যাগ না করার অভিযোগ
নথিপত্র ও রাজনৈতিক ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১০ সালে লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ময়মনসিংহ জেলা জাতীয় পার্টির ১৭ নম্বর সদস্য হিসেবে ছিলেন। এমনকি ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়ন সংগ্রহের চেষ্টা করেন এবং টাকার বিনিময়ে নমিনেশন নেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
স্থানীয়রা বলছেন, তিনি বর্তমানে নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে উপস্থাপন করলেও জাতীয় পার্টি থেকে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিএনপিতে টাকার বিনিময়ে পদ পাওয়ার অভিযোগ
বিএনপির ভেতরেও তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন দলের কিছু নেতা। তাঁদের দাবি, তিনি টাকার বিনিময়ে উপজেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ দিয়েছেন এবং একইভাবে দলীয় নমিনেশনও সংগ্রহ করেছেন। এসব অভিযোগ যাচাইয়ের দাবি তুলেছেন সাধারণ কর্মীরা।
বিএনপি হাইকমান্ডের নজরদারি
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে যেসব প্রার্থীকে নিয়ে অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিষয়ে কঠোর যাচাই-বাছাই চলছে।
২৩৭টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত হলেও কয়েকটি আসনে বিতর্কিত প্রার্থীদের তালিকা তৈরি হয়েছে বলে দলীয় insiders নিশ্চিত করেছেন।
যাচাই-বাছাই শেষে যারা অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হবেন বা বিতর্ক দূর করতে পারবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি
ঈশ্বরগঞ্জের সাধারণ ভোটার, বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মী ও দলীয় নেতারা বলছেন—
“দুর্নীতিবাজ, দল-বদলকারী এবং ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আছে, তাদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।”

