
মোঃ তাইনুল ইসলাম:
বিশ্বকাপ মিশনের শুরুটা জয় দিয়ে রাঙাতে পারল না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শক্তিশালী মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সেলেসাওদের। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের এক দুর্দান্ত গোল ব্রাজিলকে হার থেকে বাঁচালেও পূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দিতে পারেনি।
ম্যাচের শুরু থেকেই ছন্দহীন ছিল ব্রাজিল। ভুল পাস, দুর্বল মার্কিং এবং আক্রমণে ধারহীনতায় ভুগতে থাকে তারা। বিপরীতে মরক্কো বল দখল ও আক্রমণ তৈরিতে ছিল অনেক বেশি সংগঠিত। মাঝমাঠে দিয়াজের অসাধারণ পারফরম্যান্স ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে বারবার চাপে ফেলে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২১তম মিনিটে এগিয়ে যায় মরক্কো। দিয়াজের চমৎকার থ্রু পাস ধরে গোলরক্ষক আলিসনকে পরাস্ত করে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান ইসমায়েল সাইবারি। গোল হজমের পর কিছুটা চাপে পড়ে ব্রাজিল।
তবে ৩২তম মিনিটে জবাব দেয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। বাম প্রান্ত দিয়ে মরক্কোর বক্সে ঢুকে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ কোনাকুনি শটে গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এই গোলের মাধ্যমে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরানোর পাশাপাশি জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ৫০তম গোলও পূর্ণ করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা।
প্রথমার্ধে দুই দলের আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শকদের মুগ্ধ করলেও বিরতির পর ম্যাচের গতি অনেকটাই কমে যায়। উভয় দলই কিছু সুযোগ তৈরি করলেও আর কোনো গোলের দেখা পায়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।
পরিসংখ্যানে মরক্কো ১৩টি শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে ৪টি। অন্যদিকে ব্রাজিলের ৮টি শটের মধ্যে ৪টিই ছিল অন টার্গেটে। ম্যাচে ব্রাজিলের কাসেমিরো ও রজার ইবানিয়েজ হলুদ কার্ড দেখেন।
বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে এটি ছিল ব্রাজিলের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। এর আগে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ৩-০ গোলে জয় পেয়েছিল সেলেসাওরা। তবে এবার সেই ইতিহাস পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি তারা।
এদিকে চোটের কারণে ম্যাচে খেলতে পারেননি ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার Neymar। গ্যালারিতে বসে দলের খেলা দেখেছেন তিনি। আগামী ২০ জুন হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে তার ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট পাওয়ায় পরবর্তী ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই ব্রাজিলের সামনে।

