
রফিকুজ্জামান সিজার
“মৌমাছি মৌমাছি , কোথা যাও নাচি নাচি, দাঁড়াও না একবার ভাই। ওই ফুল ফোটে বনে, যাই মধু আহরণ দাঁড়াবার সময় তা নাই।” মধুকবি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের কবিতার এই লাইনর সাথ একেবারে মিলে যায় মোয়ালদের জীবন। এর বাস্তব প্রতিচ্ছবি পাওয়া গেল মৌ চাষী মনিরুল হক নানুর খামারে।
ঝিনাইদহ জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলামিটার উত্তর শৈলকুপা উপজলা শহর। এই শহরতলীতই কবীরপুর এলাকায় মনিরুল হক নানুর বাস। গ্রামের বাড়ি বিষ্ণুদিয়া। নিজর বাড়ি টিকেই মনিরুল বেছে নিয়েছেন মৌ চাষের জন্য। তিল তিল পরে করে তুলেছেন মৌ খামার। নাম দিয়েছেন মামনি মৌ খামার।
এই মামনি খামার থেকেই এবার মনিরুল উৎপাদন করেছেন প্রায় শত মণ মধু। উপার্জন করেছেন প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা । হতাশ জীবন পেয়েছেন সফলতা।
প্রায় ২৪ বছর আগে জীবিকার তাগিত সিঙ্গাপুর পাড়ি দেন মনিরুল হক। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রবাস জীবনের মায়া থেকে বছর দশেক আগে দেশে ফিরে আসেন মনিরুল। এতাদিন পর বাড়ি কী করা যায়, খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি। হতাশা তাকে অষ্ট পৃষ্ঠে ধরে। মাথার মধ্যে হঠাৎ করে মৌমাছির গুনগুন গান বেজে উঠলো, যেই ভাবা সেই কাজ। কোন রকম প্রশিক্ষণ ছাড়াই চারটি মৌ বাক্স জোগাড় করে শুরু করে দিলেন মৌ চাষ। আস্তে আস্তে অন্য খামারিদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয় শুরু করলেন বড় আকারর খামার।
মনিরুলর বাড়িত ঢুকতই এক পাশে দেখা গেল সারি সারি মৌ চাষের বাক্স। বাক্সগুলা পরিচর্যায় মহাব্যস্ত তিনি। ঘুরে ঘুরে বাক্স খুল মৌচাকগুলা দেখালেন আমাদের।
কোথায় থেকে এত মধু পাওয়া যায়? এমন প্রশর উত্তর মনিরুল আমাদের জানালেন,
বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভিন্ন ভিন্ন সময় মধু সংগ্রহ করতে হয়। টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ , মানিকগঞ্জ,মাদারিপুর ও শরিয়তপুর থেকে নভম্বর ডিসম্বর ও জানুয়ারী এই তিন মাস শুধু সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ করতে হয়। তিনি নিজ গ্রাম গড়ে তুলেছেন লিচু বাগান। আর মার্চ মাস লিচু ফুলের মধু সংগ্রহ করন।
কেমন আছেন এখন ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দৈনিক জন জাগরণকে বলেন, মৌ চাষ করে আল্লাহর রহমত পরিবারর সবার সাথে নিয়ে ভাল ভাবে জীবন যাপন করছি। তার ছোট মেয়েকে পড়াশোনা কড়াইয়ে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী অধ্যাপক বানিয়েছে। ছেলেকে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করাচ্ছেন।

