
আল মুজাহিদ-(যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণনগর এলাকায় অবস্থিত কৃষ্ণনগর মাক্কীনুর হাফেজী মাদ্রাসায় এক আবাসিক ছাত্রকে নির্মমভাবে প্রহারের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি গত মঙ্গলবার রাতে ঘটলেও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
ভুক্তভোগী আরমান আহমেদ (১৪) কৃষ্ণনগর গ্রামের আলী আহম্মেদের ছেলে। তিনি গত তিন বছর ধরে কৃষ্ণনগর মাক্কীনুর হাফেজী মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করছেন।
আরমানের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাউকে না জানিয়ে তিনি মাদ্রাসার বাইরে বের হয়েছিলেন। পরে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ ইসলামুল হক তাকে বারান্দায় ডেকে এনে বেত দিয়ে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে বেত ভেঙে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষক আরেকটি বেত এনে পুনরায় প্রহার করেন।
আরমান জানায়, প্রহারের সময় রুমে থাকা আরেক ছাত্র আশিককে তাকে শক্ত করে ধরে রাখতে বলা হয়। আশিক তাকে পিঠমোড়া করে ধরে রাখলে ওই অবস্থায় তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “চাকরি না থাকলে না থাকবে, প্রয়োজনে জেলে যাবো, তবুও তোকে মেরেই ফেলবো।”
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর কাউকে কিছু বলতে নিষেধ করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। মারধরের কারণে আরমানের জ্বর এলেও তাকে কোনো চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে তিন দিন পর বিষয়টি জানতে পেরে তার বাবা ও মামা মাদ্রাসা থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। বর্তমানে সে বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ ইসলামুল হকের মুঠোফোনে সাংবাদিক পরিচয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে আর তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, যথাযথ নীতিমালা ও তদারকির অভাবে বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে এবং সেখানে অনেক ক্ষেত্রে যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
এলাকাবাসী এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও অভিযুক্ত পক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে তা সংযুক্ত করা হবে।

