
মোঃ শফিকুল আলম শাকিল-ক্রাইম রিপোর্টার, গাইবান্ধা
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বিপুল অর্থ ব্যয়ে মন্দির ও বিশালাকৃতির শিবমূর্তি নির্মাণ করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আলোচিত প্রতারক শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস ওরফে তাওহীদ ইসলাম। তবে একজন চিহ্নিত প্রতারকের এভাবে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের ঘটনাটি স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
কে এই হরিদাস ওরফে তাওহীদ?
অনুসন্ধানে জানা যায়, হরিদাসের জীবনবৃত্তান্ত অত্যন্ত বিতর্কিত। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় অবৈধভাবে ভারতে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে পঞ্চায়েত প্রধানের কাছ থেকে এতিম সার্টিফিকেট নিয়ে ইলেকট্রনিক্সের প্রশিক্ষণ নেন। ২০১০ সালে দেশে ফিরে রাজধানীর উত্তরায় এসি মেকানিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১৮ সালে এক সবজি বিক্রেতার সাথে সাবলেট বাসায় থাকাকালীন বিয়ে করেন এবং ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে ‘তাওহীদ ইসলাম’ নাম ধারণ করেন।
প্রতারণার অভিনব কৌশল ও অতীত ইতিহাস:
নিজেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য ও প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে দামি গাড়ি ও পোশাক ব্যবহার করে তিনি সমাজের বিত্তশালীদের প্রলুব্ধ করতেন। মোবাইল ফোনে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের নাম সেভ করে ভুয়া কল দেখিয়ে আস্থা অর্জন করা ছিল তার প্রতারণার অন্যতম কৌশল। চাকরি, বদলি, টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া এবং উন্নয়নমূলক প্রজেক্টে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এই প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থে তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ‘প্যারিস সুইমিংপুল এন্টারটেইনমেন্ট পার্ক’ নামে একটি রিসোর্ট গড়ে তোলেন। ২০২১ সালে র্যাবের হাতে সহযোগীসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন এই প্রতারক।
মন্দির নির্মাণের পেছনে কি বিশেষ উদ্দেশ্য?
জামিনে বেরিয়ে বর্তমানে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর কোমরপুরে তিনি এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ মন্দির দাবি করে ‘রাধা গোবিন্দ মন্দির’ এবং প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিশালাকৃতির শিবমূর্তি নির্মাণ করছেন। ২২ কোটি টাকার এই বিশাল প্রজেক্টের উৎস এবং উদ্দেশ্য নিয়ে এখন প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষ।
সচেতন মহলের অভিযোগ, একজন চিহ্নিত অপরাধী হঠাৎ এত অর্থের মালিক হয়ে ধর্মের আড়ালে কোনো বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার কোনো অপচেষ্টা বা কালো টাকা সাদা করার কৌশল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনায় এলাকাবাসী:
পলাশবাড়ীর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষের দাবি, এই অর্থের উৎস খুঁজে বের করা হোক। তারা মনে করছেন, দ্রুত এই ব্যক্তির ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করে তাকে আইনের আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোনো অঘটন ঘটতে পারে। দেশের শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সরকারের সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনকে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

