
জুলফিকার আলী জুয়েল :
সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে তাকে নিয়ে ট্রল কিংবা সমালোচনার ঝড় নিত্যদিনের ব্যাপার। কিন্তু সবকিছুর ঊর্ধ্বে যে একটি মানবিক এবং বিশাল হৃদয়ের মানুষ লুকিয়ে আছে, তা আবারও প্রমাণ করলেন চিত্রনায়ক মুন্না খান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সস্তা জনপ্রিয়তার পেছনে না ছুটে, নীরবে-নিভৃতে এক অসহায় বোনের জীবন বাঁচাতে হাত বাড়িয়ে দিলেন তিনি। দেখালেন সমালোচনা করা সহজ, কিন্তু মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো সবার পক্ষে সম্ভব নয়।
আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতালে’ মানবিক উপস্থিতি রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বরে অবস্থিত আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করছেন এক অসহায় নারী। ব্যয়বহুল এই চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে ওই নারীর পরিবার যখন দিশেহারা, ঠিক তখনই দেবদূতের মতো হাজির হন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক মুন্না খান। হাসপাতালে গিয়ে তিনি সরাসরি ওই অসুস্থ বোনের সাথে দেখা করেন, তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার জন্য নগদ অর্ধ লক্ষ (৫০,০০০) টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পাশে থাকার আজীবন আশ্বাস শুধু এককালীন আর্থিক সাহায্য দিয়েই নিজের দায়িত্ব শেষ করেননি মুন্না খান। ওই বোনের পরিবারের মাথায় হাত রেখে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, চিকিৎসার এই কঠিন জার্নিতে তিনি সবসময় তাদের পাশে থাকবেন। আগামীতেও যেকোনো প্রয়োজনে এই পরিবারের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সবাই মুন্না খানকে নিয়ে ট্রল করতে পারে, কিন্তু সবাই মুন্না খান হতে পারে না। মানবতার খাতিরে তিনি যে দৃষ্টান্ত দেখালেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। হাসপাতালে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন চিত্রনায়ক মুন্না খান মানবতার ফেরিওয়ালা বর্তমান সমাজে যখন মানুষ নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত, তখন মুন্না খানের মতো তরুণদের এমন নিঃস্বার্থ উদ্যোগ সমাজে এক দারুণ ইতিবাচক বার্তা দিলেন। সামাজিক মাধ্যমে ট্রলকারীদের মুখে একপ্রকার থুতু দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন তিনি বুঝিয়ে দিলেন, আসল মানুষের পরিচয় তার কর্মে, মানুষের ট্রল বা উপহাসে নয়।
অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং বিপদে পাশে দাঁড়ানোর এই মানসিকতার কারণে অনেকেই এখন তাকে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা উপাধিতে ভূষিত করছেন। চিত্রনায়ক মুন্না খানের এই মানবিক উদ্যোগ দেখে উপস্থিত রোগী, চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষ তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সমাজের বিত্তবানরা যদি মুন্না খানের মতো এভাবে এগিয়ে আসেন, তবে হয়তো টাকার অভাবে কোনো প্রাণ ঝরে পড়বে না। নিউ ঢাকা ইসলামী জেনারেল হাসপাতালের মালিক শাহিন শিকদার বলেন চিত্রনায়ক মুন্না খান একজন উদীয়মান অভিনেতা, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র কে আধুনিক ও উন্নত মানের চলচ্চিত্র তৈরিতে তার ভূমিকা অন্যতম, ইতিমধ্যে ডার্ক ওয়ার্ল্ড ও এবং তছনছ সিনেমায় তা প্রকাশ পেয়েছে, আমাদের দেশে কিছু মানুষ আছে যারা অন্যের ভালো দেখতে পারেনা, যারা ভালো কিছু দেখলে সমালোচনা করতেই বেশি ভালোবাসে, আমি আশা করব আগামী দিনগুলোতে এমন লোকজনের সুবোধ উদয় হবে, তাহলেই চিত্রনায়ক মুন্না খানের মতো আরো দানবীর ব্যক্তি বাংলাদেশে আত্মপ্রকাশ করবে।

