
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে কোরবানির পশুর মাংস কাটতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের বেশিরভাগেরই হাত-পায়ের আঙুলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসে তারা চিকিৎসা নেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেজিস্টার খাতা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার ধুম পড়ে। তবে অভিজ্ঞতার অভাব এবং অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো ও অসাবধানতার কারণে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হন। বিশেষ করে পেশাদার কসাইয়ের বদলে মৌসুমি কসাই এবং পরিবারের সদস্যরা নিজে মাংস কাটতে গিয়ে বেশি আহত হয়েছেন। কারও কারও ক্ষতস্থানে একাধিক সেলাইও দিতে হয়েছে।
আহতদের মধ্যে শহরের কাজীপাড়ার বাসিন্দা সোহাগ মিয়া (৪০) জানান, মাংস কাটার সময় পায়ের নিচে হাড় রেখে কোপ দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত তার নিজের পায়েই কোপ লেগে যায়। পরে হাসপাতালে আনা হলে তার পায়ে তিনটি সেলাই দেওয়া হয়।
একইভাবে ভাদুঘর এলাকার হানিফ মিয়া (২২) জানান, সকালে গরুর মাংস কাটার সময় হঠাৎ হাত থেকে ছুরি ফস্কে গিয়ে কেটে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।
এছাড়া নবীনগরের বাইশমৌজা এলাকার মো. খায়ের (৩৫) জানান, কোরবানির মহিষ জবাইয়ের সময় প্রাণীটি হঠাৎ বাঁধন ছিঁড়ে তাঁর গায়ের ওপর পড়ে গেলে তিনি হাত, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসা নেওয়া শতাধিক মানুষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন— তাজুল (৫৮), জাবেদ (১৮), হানিফ (২২), নওশাদ (২৫), মাшেক (২৫), সোহাগ (৪০), জিতনি (১৮), খায়ের (৩৫), আলভী (১২), বিশাল (২০) ও জাহাঙ্গীর (৪২)।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক শুভ্র রায় জানান,
”সকাল থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত প্রায় শতাধিক ব্যক্তি কোরবানির মাংস কাটতে গিয়ে আহত হয়ে জরুরি বিভাগে এসেছেন। আহতদের আঘাতের স্থান পরিষ্কার করে প্রয়োজনীয় ব্যান্ডেজ ও সেলাইসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাধীন বা আগতদের কেউই গুরুতর নন, সবাই সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত।”
তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বিকেল) মাংস কাটতে গিয়ে আহত হয়ে আরও বেশ কয়েকজন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছিলেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

