
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাঁটিহাতা বিশ্বরোডে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ফোরলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতাধীন একটি বক্স কালভার্ট নির্মাণকাজের গভীর খাদের কারণে একটি পেট্রোল পাম্পসহ আশপাশের বেশ কিছু স্থাপনা বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তীব্র ভাঙনের মুখে পড়ে ইতিমধ্যেই ‘ফাহাদ ফিলিং স্টেশন’ নামক পাম্পটির ডিজেল ডিসপেন্সার (তেল বিক্রির মেশিন) খুলে ফেলা হয়েছে এবং বন্ধ রয়েছে অকটেন ডিসপেন্সারও। ফলে পাম্পটির বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতিসহ বিভিন্ন যানবাহনে জ্বালানি তেল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
পাম্পের সুপারভাইজার মামুন মোল্লা জানান, পাম্পের সম্মুখভাগে ফোরলেন সড়ক নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে পানি নিষ্কাশন ড্রেনের জন্য একটি বড় বক্স কালভার্ট তৈরি করা হচ্ছে। এজন্য প্রায় ২ বছর আগে এখানে গভীর করে মাটি খনন করা হলেও, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় পর এখন বর্ষা ও বৃষ্টির মধ্যে কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। কিন্তু খননকৃত স্থানে কোনো ধরনের প্রতিরক্ষামূলক গাইডওয়াল বা টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তাদের পাম্পটি বক্স কালভার্টের খাদে ভেঙে পড়তে শুরু করেছে।
তিনি আরও জানান, গত ১৪-১৫ দিন ধরে চলা এই ক্রমাগত ভাঙনে তাদের ডিজেল ও অকটেন ডিসপেন্সার জোনের মাটি ধসে গেছে। বাধ্য হয়ে ভাঙনের মুখ থেকে ডিজেল ডিসপেন্সারটি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে মহাসড়কে চলাচলকারী দূরপাল্লার ও স্থানীয় যানবাহনে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে এবং পাম্প কর্তৃপক্ষের প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পাম্পের মালিক ফারহান নূর বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকল্প পরিচালককে (পিডি) অবহিত করলে, তিনি সশরীরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে কাজ করার কঠোর নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্প পরিচালকের নির্দেশের পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দৃশ্যমান কোনো টেকসই পদক্ষেপ না নিয়েই ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে পুরো পাম্পটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে খাদের ভেতর বিলীন হয়ে যাওয়ার চরম আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
যোগাযোগ করা হলে প্রকল্পের ব্যবস্থাপক-১ মোস্তাকুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “বিষয়টি আমরা অবগত আছি। ভাঙন ঠেকানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাতে কালভার্টের কাজ করা হয়, সেজন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে লিখিত চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা সুরক্ষার ব্যবস্থা নিচ্ছে। এর আগেও তারা কিছু ব্যবস্থা নিয়েছিল, তবে সেটি পর্যাপ্ত বা ঠিকঠাক ছিল না। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।”

