
আঃ রাজ্জাক :
রাজধানীর মহাখালী আমতলী এলাকায় সেতু ভবনের পাশেই দূর-দূরান্ত থেকে আসা কোরবানির পশুবাহী ট্রাক আটকে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি, চালক ও ব্যবসায়ীদের মারধর এবং হুমকির অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। ঘটনার বিস্তারিত ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে সংবাদকর্মীদেরও এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি ও মারধর
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও চালকদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকা অভিমুখে আসা গরুর ট্রাকগুলো মহাখালী আমতলী সেতু ভবনের কাছে পৌঁছালেই গতিরোধ করছে একদল যুবক। তারা নিজেদের ট্রাকে ‘তেজগাঁও গরু’ বা নির্দিষ্ট লোগো লাগিয়ে এই অবৈধ কার্যক্রম প্রকাশ্যেই চালিয়ে যাচ্ছে।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা দরকষাকষি করলে গরুর বেপারি ও চালকদের ওপর চড়াও হচ্ছে চক্রটি। অনেককে মারধর করে ট্রাক আটকে রাখার ঘটনাও ঘটেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে মূল সড়কের ওপর ট্রাক আটকে হুমকি-ধমকি দেওয়ায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ভিডিও ফুটেজে কালো গেঞ্জি পরিহিত যুবকের তাণ্ডব
ঘটনাস্থল থেকে সংরক্ষিত ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, সেতু ভবনের ঠিক পাশেই লোগো ব্যবহার করে চক্রটি একের পর এক গরুর ট্রাক থামাচ্ছে। এ সময় চালক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করতে গেলে ধেয়ে আসে কালো গেঞ্জি পরিহিত এক কথিত গুন্ডা।
সে নিজেকে ওই এলাকার প্রভাবশালী দাবি করে সাংবাদিকদের ক্যামেরা নামাতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। অত্যন্ত উগ্র ভাষায় গালিগালাজ করে সে সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলে, “এখানে কিসের ছবি তুলিস? বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোদের কেউ বাঁচাতে পারবে না। ভালো চাইলে দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যা!” একই সাথে তার সাথে থাকা আরও কয়েকজন যুবক সাংবাদিকদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে এলাকা ছাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।
পুলিশের আশ্বাস ও বিব্রত ভাব
বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বনানী থানায় যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা ঘটনার বিবরণ শুনে কিছুটা বিব্রত বোধ করেন। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বনানী থানার পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং সাংবাদিকদের হুমকি দাতা ও চাঁদাবাজির সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন:
”যেখানেই এই ধরনের অপরাধমূলক বা চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটবে, তাৎক্ষণিকভাবে আমাদেরকে তথ্য দিন। তথ্য পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে যাবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুবাহী ট্রাকে এমন প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও সাংবাদিকদের হুমকির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত এই চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

