
মোঃ মোনাহার মিয়া-স্টাফ রিপোর্টার
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের উত্তর সারমারা নদীর ওপর নির্মিত একটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন অবহেলিত জনপদের হাজারো মানুষ। স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পার হলেও এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় চরম ক্ষোভ ও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ৩ গ্রামের মানুষ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীর ওপারে অবস্থিত বালুর চর, পেরিরচর ও উত্তর সারমারা—এই তিন গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোটি। প্রতিদিন স্কুল কোমলমতি শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, নারী ও মুমূর্ষু রোগীসহ হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে এই সাঁকো ব্যবহার করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাঁকোটির বিভিন্ন জায়গার বাঁশ পচে গেছে এবং অনেক স্থানে বাঁধন আলগা হয়ে পড়েছে। সামান্য অসাবধানতায় যেকোনো মুহূর্তে সাঁকোটি ভেঙে নদীতে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
শুকনো মৌসুমে কোনোমতে চলাচল করা গেলেও বর্ষাকালে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। তখন সাঁকোটি পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়ার বা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কোনো রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে দুর্ভোগের সীমা থাকে না।
স্থানীয় এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন,
“ভোটের সময় কত নেতা কত আশ্বাস দেয়, কিন্তু ভোট শেষ হলে আমাদের খোঁজ নেওয়ার কেউ থাকে না। একটা ব্রিজের অভাবে আমাদের ছেলেমেয়েরা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারে না, বর্ষায় জীবন হাতে নিয়ে নদী পার হতে হয়।”
নেই কোনো কার্যকর উদ্যোগ
ভোক্তভোগী গ্রামবাসীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা এখানে একটি স্থায়ী ও টেকসই সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান বা কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে এই অঞ্চলের মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
যোগাযোগ ব্যবস্থার এই বেহাল দশা থেকে মুক্তি পেতে এবং বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই উত্তর সারমারা নদীতে দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

