
নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে ছাগল কেনাবেচা জমে উঠেছে। তবে এ সময় একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক ক্রেতার মধ্যে “ব্ল্যাক বেঙ্গল” ছাগল মানেই সম্পূর্ণ কালো রঙের ছাগল—এমন ভুল ধারণাকে পুঁজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সাদা, হলুদ বা অন্যান্য রঙের ছাগলকে কৃত্রিমভাবে কালো রং করে বাজারজাত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, “ব্ল্যাক বেঙ্গল” মূলত একটি জাতের নাম। এই জাতের ছাগল বিভিন্ন রঙের হতে পারে। শুধুমাত্র গায়ের রং দেখে ব্ল্যাক বেঙ্গল নির্ধারণ করা বৈজ্ঞানিক নয়। অথচ সাধারণ মানুষের অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কিছু বিক্রেতা ছাগলের শরীরে কেমিক্যাল বা কলপ ব্যবহার করে কালো রং করছেন, যা প্রাণীর স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।
স্থানীয় বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, কিছু ছাগলের গায়ে অস্বাভাবিক কালো রঙের প্রলেপ, যা হাত দিলে উঠে আসছে। অনেক ক্রেতা বিষয়টি বুঝতে না পেরে বেশি দামে এসব ছাগল কিনছেন। সচেতন মহল বলছে, এটি শুধু প্রতারণাই নয়, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণও বটে।
প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর মাংসের গুণগত মান, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধির সক্ষমতা। রং নয়, বরং জাতগত বৈশিষ্ট্যই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে কৃত্রিম রং ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করা না হয়। পাশাপাশি ক্রেতাদেরও ছাগল কেনার আগে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ছাগলের গায়ে অস্বাভাবিক রং, তীব্র কেমিক্যালের গন্ধ বা হাত দিলে রং ওঠে কিনা—এসব বিষয় খেয়াল করলেই সহজে প্রতারণা এড়ানো সম্ভব।

