
কবির হোসেন রাকিব-লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মোল্লারহাট বাজারের পশুর হাটে (গরু বাজার) হাসিল আদায়ে চরম অনিয়ম ও রসিদ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। আর এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে। গত শনিবার বাজারে এই অনিয়মের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্য নিতে গেলে সাংবাদিকদের সাথে চরম অপেশাদার ও অসদাচরণ করেছেন অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তা।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিযোগ, মোল্লারহাট পশুর হাটে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত হাসিল আদায় করা হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে কোনো রসিদ ছাড়াই টাকা নেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও জাল ও ভুয়া রসিদ ব্যবহার করে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। হাটের হাসিল আদায়ের এই পুরো প্রক্রিয়ার তদারকির দায়িত্বে থাকা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তারের পরোক্ষ মদদেই এই জালিয়াতি চলছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
এদিকে, বাজারে হাসিল জালিয়াতি ও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদকর্মীরা সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে যান। পরে এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তারের মুখোমুখি হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অনিয়মের বিষয়ে কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে অত্যন্ত খিটখিটে, অসংলগ্ন ও অপেশাদার আচরণ করেন এবং তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। সরকারি একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে উপস্থিত সংবাদকর্মী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি আগে অবগত ছিলাম না। আপনার মাধ্যমেই প্রথম শুনলাম।” তিনি আরও জানান, “অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম এবং সাংবাদিকদের সাথে অসদাচরণের বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব এবং এ ব্যাপারে দ্রুত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
খোদ সরকারি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে হাটে এমন প্রকাশ্য জালিয়াতি এবং সাংবাদিকদের সাথে দুর্ব্যবহারের ঘটনায় রায়পুরের সচেতন মহল ও কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার ও হাসিল জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে যেন কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

