
জাবেদ আহমেদ রিপন-মৌলভীবাজার
হবিগঞ্জ–সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার সড়কে চলাচলকারী “হবিগঞ্জ সিলেট এক্সপ্রেস” সকল বাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে রুট পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, এই বাসগুলোর একটি বড় অংশের মৌলভীবাজার হয়ে চলাচলের বৈধ রুট পারমিট নেই।
প্রকাশিত তথ্যমতে, অনেক গাড়ির—
বৈধ রুট পারমিট নেই,
ফিটনেস মেয়াদোত্তীর্ণ,
ট্যাক্স টোকেন মেয়াদোত্তীর্ণ,
আবার কিছু গাড়ির পারমিট থাকলেও তা অন্য রুটের জন্য অনুমোদিত।
অর্থাৎ, বিভিন্ন রুট থেকে বাতিল বা অন্যত্র চলাচলের অনুমোদনপ্রাপ্ত গাড়ি এনে অবৈধভাবে “হবিগঞ্জ – সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার” রুটে চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
উল্লেখ্য এই অবৈধ চলাচলের প্রতিবাদে গত ১০ মে মৌলভীবাজার জেলা পরিবহন শ্রমিক–মালিক ঐক্য একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু এর প্রতিক্রিয়ায় অভিযোগ রয়েছে যে, হবিগঞ্জ মোটর মালিক সমিতির নির্দেশে কিছু উশৃঙ্খল শ্রমিক সড়কে এলোপাতাড়িভাবে গাড়ি রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত করে।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসে।
এরপর মৌলভীবাজার জেলার মাননীয় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আটকে থাকা গাড়িগুলোর কাগজপত্র বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (BRTA) এর মাধ্যমে যাচাই করা হলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—
অনেক গাড়ির বৈধ ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও রুট পারমিট নেই। আবার কিছু গাড়ির পারমিট থাকলেও তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন রুটের জন্য।
এখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—
যদি এত গাড়ির বৈধ কাগজপত্র না থাকে, তাহলে এতোদিন ধরে কীভাবে তারা প্রকাশ্যে এই রুটে চলাচল করেছে?
কারা তাদেরকে “ম্যানেজ” করেছে?
কার আশ্রয়–প্রশ্রয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় বছরের পর বছর এই অবৈধ কার্যক্রম চলেছে?
সাধারণ মানুষের মনে এখন আরও প্রশ্ন জেগেছে—
রাস্তায় নিয়মিত চেকপোস্ট থাকা সত্ত্বেও এসব গাড়ি ধরা পড়েনি কেন?
ফিটনেস ও রুট পারমিট ছাড়া গাড়ি চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এতদিন নীরব ছিল কেন?
কোন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় কি এসব অবৈধ গাড়ি চলাচল করতো?
যারা বছরের পর বছর এই অবৈধ গাড়িগুলোকে চলার সুযোগ দিয়েছে, তাদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সাধারণ যাত্রীরা না জেনেই প্রতিদিন এসব অবৈধ ও অনিরাপদ গাড়িতে যাতায়াত করেছেন দুর্ঘটনায় অনেক পরিবার হয়েছেন নিঃস্ব। এতে যেমন যাত্রী নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে, তেমনি বৈধ পরিবহন ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাধারণ যাত্রীদের ভাষ্য হচ্ছে অবৈধ গাড়ির দৌরাত্ম্য বন্ধ হোক।

