
নিজস্ব প্রতিনিধি :
সদ্য ঘোষিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এস এম মিল্টন সরকারকে না রাখায় দেশে বিদেশে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাম্প্রতিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণার পর দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বহু নেতাকর্মীর মধ্যে নানা আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপসহ প্রবাসী জাতীয়তাবাদী নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে আলোচিত বিষয় হলো এস এম মিল্টন সরকার । দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত সংগঠক ছাত্র দলের সোনালী ফসল ও যুবদলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এস এম মিল্টন সরকারের নাম নতুন কমিটিতে না থাকা।
দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা এবং প্রবাস জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও এস এম মিল্টন সরকার দল ও সংগঠনের প্রতি তার আনুগত্য এবং দায়বদ্ধতা থেকে কখনও বিচ্যুত হননি। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কঠিন সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করা, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিএনপি ও যুবদলের অবস্থান তুলে ধরা এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
তার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি পূর্ববর্তী কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুবদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ছিলেন । বিএনপির চেয়ারপার্সন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদী দর্শনের প্রতি অবিচল থেকে তিনি সংগঠনের আন্তর্জাতিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ছিলেন বলে অনেক নেতাকর্মী মনে করেন।
নতুন কমিটি ঘোষণার পর ইউরোপের সহ বাংলাদেশে এবং প্রবাসে জাতীয়তাবাদী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—কী কারণে এবং কেন এস এম মিল্টন সরকারের মতো এক জন পরীক্ষিত, ত্যাগী এবং সাংগঠনিক ভাবে দক্ষ নেতাকে যুবদলের নতুন নির্বাহী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলো না? যদিও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি তার শ্রদ্ধা রয়েছে, কিন্তু তবুও তৃণমূলের বহু নেতাকর্মী বিষয়টির ব্যাখ্যা জানতে আগ্রহী।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি রাজনৈতিক সংগঠনকে শক্তিশালী ও গতিশীল রাখতে নতুন নেতৃত্বের পাশাপাশি অভিজ্ঞ, ত্যাগী এবং পরীক্ষিত নেতাদেরও যথাযথ মূল্যায়ন প্রয়োজন। কারণ দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সময়, শ্রম, অর্থ এবং ব্যক্তিগত জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, তাদের অভিজ্ঞতা সংগঠনের জন্য মূল্যবান সম্পদ।
এস এম মিল্টন সরকারের ক্ষেত্রেও অনেক নেতাকর্মীর বিশ্বাস, তিনি শুধু একজন ব্যক্তি নন; বরং দেশে ও প্রবাসে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির একটি পরিচিত মুখ এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সংগ্রামের প্রতীক। রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময় হামলা মামলা মাথায় নিয়ে পরিবার পরিজন রেখে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় প্রবাসে থেকে সংগঠনের জন্য কাজ করা এবং ৫ ই আগস্টের পর রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশে ফিরে সক্রিয় হওয়া তার রাজনৈতিক অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ।
শুধু আসাম মিল্টন সরকারই নন, নতুন কমিটিতে এমন আরও কয়েকজন ত্যাগী ও অভিজ্ঞ নেতার নাম না থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস, সাংগঠনিক অবদান এবং দলের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি নিষ্ঠার ভিত্তিতে এসব নেতার অভিজ্ঞতাকে ভবিষ্যতে যথাযথভাবে কাজে লাগানো উচিত।
দলের নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করেন, একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ যুবদল গড়ে তুলতে নতুন ও পুরোনো নেতৃত্বের সমন্বয় অপরিহার্য। সেই বিবেচনায় আসাম মিল্টন সরকারের মতো সংগঠক, পরিশ্রমী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন দলকে আরও সুসংগঠিত এবং কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রাজনীতিতে পদ-পদবি ক্ষণস্থায়ী হলেও ত্যাগ, আদর্শ এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অবদান সবসময়ই ইতিহাসে স্থান পায়। আর সেই কারণেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা—দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ও বিশ্বস্ত সৈনিকদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হবে এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

