
মোঃ তরিকুল ইসলাম খান
উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় চাই দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে। যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন দেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তবে দেশের ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় এখনই আরও কিছু বড় ও যুগোপযোগী প্রকল্প হাতে নেওয়া প্রয়োজন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বর্তমান সরকারের কাছে জনগণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা হতে পারে—পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এলাকায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ এবং আরেকটি আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন।
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুট দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ও মানুষ এই পথে যাতায়াত করে। ফেরি পারাপারে দীর্ঘ যানজট, সময় অপচয় ও ভোগান্তি দেশের অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলে। তাই এখানে একটি দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। শিল্প, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটন খাত আরও গতিশীল হবে। দেশের দক্ষিণ ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
অন্যদিকে, শিল্পায়ন ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে রূপপুরের মতো আরও একটি নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ সময়ের দাবি। এতে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমবে।
জনগণের প্রত্যাশা—রাষ্ট্রের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প যেন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করা হয়। অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছিল। তাই মানুষ এখন এমন উন্নয়ন চায়, যেখানে দেশের সম্পদ দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যয় হবে এবং প্রতিটি প্রকল্প হবে দুর্নীতিমুক্ত ও টেকসই।
আমরা বিশ্বাস করি, সৎ পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও দেশপ্রেম থাকলে বাংলাদেশ আরও বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে। উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সাহসী ও দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত আজ সময়ের দাবি।

