
সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পানিতে ধান তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে আহাদ মিয়া (৫৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২ মে) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আহাদ মিয়া রামপুর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে নিজের জমিতে যান আহাদ মিয়া। সেখানে গিয়ে দেখেন, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে তাঁর ছয় বিঘা জমির ব্রি-২৯ ধান সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে গেছে। সারা বছরের আয়ের একমাত্র উৎস এ ধরনের করুণ পরিণতি দেখে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়ে যান এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাতিজা ফারুক মিয়া জানান, প্রায় ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে আহাদ মিয়া এই আবাদ করেছিলেন। সব ধান পানিতে ডুবে যাওয়ার দৃশ্য তিনি সহ্য করতে পারেননি।
নিহত কৃষকের পরিবারের দাবি, আহাদ মিয়া স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তবে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতির বর্ণনা অনুযায়ী তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়ে থাকতে পারেন।
স্থানীয় কৃষক দুধ মিয়া জানান, টানা বৃষ্টিতে গোয়ালনগর ইউনিয়নের প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে এলাকার কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই ঘটনায় অন্তত তিনজন কৃষক অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
নিহতের বড় ভাই ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আহম্মদ হোসেন জানান, জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান শাকিল জানান, জমিতে ধান কাটতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যুর বিষয়টি তাঁরা জেনেছেন এবং খোঁজখবর নিতে একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে নিহতের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরিন বলেন, “উপজেলায় অনেক কৃষকের জমির ধান বৃষ্টির কারণে তলিয়ে গেছে। একজন কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি এবং আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জেনেছি। কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি সত্য হলে তাঁদের নাম ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।”

