
মোঃ তাইনুল ইসলাম
যুক্তরাষ্ট্রের University of South Florida-এ নিহত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির স্মরণে আবেগঘন শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ শোকসভায় পরিবার-পরিজন, বন্ধু, সহপাঠী, শিক্ষকসহ শত শত মানুষ অংশ নেন। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রিয় দুই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে পড়েন উপস্থিত সবাই।
শোকসভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট Moez Limayem গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “জামিল ও বৃষ্টি শুধু মেধাবী শিক্ষার্থীই ছিলেন না, তারা ছিলেন অত্যন্ত মানবিক ও সম্ভাবনাময় দুই তরুণ গবেষক। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, তাদের স্মৃতি আমরা হৃদয়ে ধারণ করে রাখবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাদের স্মরণ করা হবে।”
এ সময় ক্যাম্পাসে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা দুই শিক্ষার্থীর ছবির সামনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। অনেকে মোমবাতি প্রজ্বলন করে তাদের স্মরণ করেন। পরে তাদের আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শোকাহত সহপাঠীদের অনেকেই এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নিহতদের সহপাঠী ও বন্ধু ওমর হোসাইন বলেন, “লিমন ও বৃষ্টি দুজনই খুব দয়ালু, বন্ধুসুলভ এবং সহযোগিতাপরায়ণ ছিল। তারা সবসময় অন্যকে সাহায্য করতো। তাদের এমন নির্মম মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আল্লাহ যেন তাদের জান্নাতবাসী করেন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকও স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, লিমন ও বৃষ্টি গবেষণায় অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবার অনেক আশা ছিল। তাদের মৃত্যু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ এপ্রিল জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। কয়েকদিন পর তদন্তের মাধ্যমে তাদের হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও।
হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের অফিস জানায়, এ ঘটনায় জামিলের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ বা অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে Embassy of Bangladesh, Washington D.C. জানিয়েছে, জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে ২ মে বাংলাদেশে পাঠানো হবে। দুবাই হয়ে তার মরদেহ ৪ মে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। অন্যদিকে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহও দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানানো হয়েছে।
দুই মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে দেশে-বিদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন অনেকে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

