
নিজস্ব প্রতিনিধি :
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান। এখানে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটার কথা। সংসদ কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার স্থান নয়, এটি দায়িত্বশীল আচরণ, যুক্তি ও রাষ্ট্রীয় শালীনতার প্রতীক। তাই জাতীয় সংসদে প্রতিটি বক্তব্য হওয়া উচিত সংযত, গঠনমূলক ও জনগণের কল্যাণমুখী।
সম্প্রতি জিয়া পরিবারকে ঘিরে সংসদ সদস্য আদলির রহমান পার্থের বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ তাঁর বক্তব্যকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন এটি ছিল অতিরঞ্জিত আবেগ বা অভিনয়ধর্মী উপস্থাপনা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যক্তিপূজা বা পরিবারকেন্দ্রিক প্রশংসার সংস্কৃতি নতুন কিছু নয়। অতীতে বিভিন্ন সময়ে আমরা দেখেছি কেউ গান গেয়ে, কেউ আবেগঘন বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতাসীন নেতৃত্বের মন জয় করার চেষ্টা করেছেন। শেখ পরিবারকে ঘিরেও এমন গুণকীর্তনের বহু উদাহরণ দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, জাতীয় সংসদ কি এমন আবেগী রাজনৈতিক অভিনয়ের জায়গা? সংসদ তো মূলত জনগণের অধিকার, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও রাষ্ট্রীয় সংকট নিয়ে কার্যকর আলোচনা করার স্থান। সেখানে যদি রাজনৈতিক নাটকীয়তা বেশি প্রাধান্য পায়, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা ব্যাহত হয়। সাধারণ মানুষ চায় সংসদে তাদের জীবনমান উন্নয়নের কথা বলা হোক, দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন নিয়ে বাস্তবসম্মত আলোচনা হোক।
আদলির রহমান পার্থের বক্তব্যে তিনি হয়তো রাজনৈতিক আনুগত্য প্রকাশ করতে চেয়েছেন অথবা বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানাতে চেয়েছেন। এতে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন জয় করতে পেরেছেন কি না, তা সময়ই বলবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—জাতীয় সংসদের মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব। কারণ সংসদীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ব্যক্তিগত প্রশংসা বা আবেগী উপস্থাপনায় নয়, বরং যুক্তিনির্ভর ও দায়িত্বশীল আলোচনায়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা এবং সংসদের মর্যাদা অটুট রাখা এখন সময়ের দাবি। জনগণ চায় তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা অভিনয় নয়, কার্যকর নেতৃত্ব ও বাস্তবসম্মত সমাধান উপহার দিক। তাহলেই জাতীয় সংসদ সত্যিকার অর্থে গণমানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবে।
মোঃ তরিকুল ইসলাম খান

