
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত পীর শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি তালিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে মামলার এজাহারের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ভিডিও ফুটেজে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া যাদের স্পষ্ট দেখা গেছে, তাদের অনেকের নামই বাদ পড়েছে। এতে ঘটনাটিকে ঘিরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা সাজানোর অভিযোগ উঠেছে।
মামলার বাদী নিহতের ভাই ফজলুর রহমান। এজাহারে প্রধান আসামি করা হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদকে। দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা আমির মাওলানা আসাদুজ্জামানকে। এছাড়া স্থানীয় আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ জনকে।
তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। ঘটনার সময় ধারণকৃত প্রায় ১৯ মিনিটের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলায় সামনের সারিতে ছাত্রদল ও যুবদলের একাধিক নেতাকর্মী সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। অথচ তাদের নাম মামলার তালিকায় নেই। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—কেন দৃশ্যমান হামলাকারীরা বাদ পড়লেন?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাদী ফজলুর রহমান সরাসরি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, “এই প্রশ্নের জবাব আমি দিতে পারব না, আমাকে মাফ করবেন।”
ঘটনার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও উসকানির অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রদল নেতা যুবায়ের আহমেদ হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে গ্রামবাসীকে সংগঠিত করেন বলে জানা গেছে। ভিডিও ফুটেজে তাকেই হামলার নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় বলেও দাবি স্থানীয়দের।
অন্যদিকে, মামলার প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদের পক্ষে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তিনি ঘটনার আগে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের অনুরোধ করেছিলেন এবং সামাজিক মাধ্যমে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেনও তার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আরও ঘনীভূত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে তাদের নেতাকর্মীদের মামলায় জড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, এটি ছিল জনতার স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া—কোনো দলীয় নির্দেশে হামলা হয়নি।
ফিলিপনগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি একরামুল হক জানান, “খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনা ঘটেছে। সেখানে সব দলের লোকজনই উপস্থিত ছিল।”
স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, এটি ছিল সম্মিলিত জনরোষের বহিঃপ্রকাশ, কিন্তু এখন একটি পক্ষকে লক্ষ্য করে মামলার গতিপথ ভিন্নদিকে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এদিকে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, “তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার নাম অন্তর্ভুক্ত হবে। আর কেউ জড়িত না থাকলে তার নাম বাদ যাবে।”
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

