
অন্তর্বর্তী সরকার সেন্টমার্টিনকে অবরুদ্ধ করে গিয়েছে; দ্বীপবাসীর অবরোধ মুক্ত করা নির্বাচিত সরকারের মানবিক দায়িত্ব – স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি
কিউবাকে আমেরিকা যেভাবে বছরের পর বছর অবরোধ করে রেখেছে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের কট্টরপন্থী পরিবেশবাদী ড. ইউনুস ও সৈয়দা রেজওয়ানারা কিউবার চেয়ে আরো জঘণ্য অমানবিক কায়দায় বিগত প্রায় দুই বছর যাবৎ সেন্টমার্টিনবাসীকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে পরিবেশবাদের নামে। দ্বীপের মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার অধিকার অন্যায়ভাবে তারা কেড়ে নিয়েছে। পরিবেশবাদের ছদ্মাবরণে ইউনুস-রেজওয়ানারা বৈদেশিক ফান্ডিংয়ে নিজেদের তৈরী এনজিওর পকেট ভারী করলেও দ্বীপবাসীকে ফেলে দিয়েছে মৃত্যর কিনারায়! চরম অভাবে দ্বীপের অসহায় মানুষগুলো এখন দু’বেলা খাবার পাচ্ছে না। শত শত বাচ্চাদের পড়াশুনা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দ্বীপবাসীর উপর এ এক বিরাট জুলুম এবং চরম মৌলিক-মানবাধিকার লঙ্ঘণ। দ্বীপ ও দ্বীপের মানুষ বাঁচাতে দ্বীপটি দ্রুত অবমুক্ত করা নির্বাচিত সরকারের চরম-পরম মানবিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজ ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
জিয়াউল হক বলেন, বৈদেশিক ফান্ডিংয়ে চলা ড. ইউনুসের পরিবেশবাদী ‘থ্রি জিরো থিউরি’ ও সৈয়দা রেজওয়ানাদের কট্টরপন্থী পরিবেশবাদী ধারণা মানব সভ্যতার জন্য বড় ধরণের হুমকী। এই পরিবেশবাদীরা মানবসভ্যতার শত্রু! পরিবেশ ও মানব সমাজকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে মানুষকে বাস্তুচ্যুত করে যারা পরিবেশ রক্ষার কথা বলে তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে, বিদেশী এজেন্ডা রয়েছে। দেশীয় ব্যবসা, উৎপাদন ও মানব বসতীকে ধ্বংস করে বিদেশী ব্যবসা প্রসারণ, বিদেশী অর্থ আত্মসাৎকরণ এবং বিদেশী বসতী প্রতিস্থাপন করা তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য! নারিকেল দ্বীপেও (সেন্ট মার্টিন) কথিত পরিবেশবাদীরা একই এজেন্ডা বাস্তবায়নের অপচেষ্টা চালাচ্ছে!
জিয়াউল হক বলেন, আমরা পরিবেশ রক্ষার পক্ষে, কিন্তু পরিবেশবাদী নামক মানবসভ্যতার শত্রুদের বিপক্ষে! নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপ ভ্রমণে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশী-বিদেশী পযটকরা এখন ভারত, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভুটান তথা বিদেশে চলে যাচ্ছে। ফলে একদিকে বাংলাদেশের পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, অন্যদিকে রিজার্ভের উপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। আর দেশীয় পরিবেশবাদী দালালরা বিদেশী পযটন কেন্দ্রগুলো থেকে কমিশন খাচ্ছে মর্মে অভিযোগ আসছে!
জিয়া বলেন, দ্বীপের ৮/১০ হাজার বাসিন্দাদের প্রায় শতভাগ মানুষের জীবন-জীবিকার একমাত্র উপায় শীতকালের ৪-৫ মাসের পর্যটন শিল্পকে ইউনুস-রেজওয়ানারা প্রায় ধংস করে দিয়ে গেছে! জীবিকা নির্বাহের ভিন্ন উপায় না থাকায় দ্বীপবাসী বেঁচে থাকার তাগিদে এখন দ্বীপ ত্যাগে বাধ্য হচ্ছে। দ্বীপটি দিনদিন জনশূণ্য হয়ে যাচ্ছে। ফলে পার্শ্ববর্তী মিয়ানমারের মগ, আরাকান ও ভারতীয় জেলেদের নারিকেল দ্বীপের আশপাশে আনাগোনা বেড়ে যাচ্ছে বলে খবর আসছে। ২০১৯ সালেও মিয়ানমারের সরকারি ম্যাপে নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপকে তাদের বলে দেখিয়েছিল। এছাড়া আরো কিছু বিদেশী অপশক্তির খায়েশ রয়েছে নারিকেল দ্বীপের প্রতি। সুযোগ পেলেই তারা তাদের খায়েশ মেটাবার চেষ্টা চালাবে। তাই নারিকেল দ্বীপে যাতায়াতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা সেন্ট মার্টিনের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকী হয়ে দাঁড়াতে পারে!
অতএব, দ্বীপবাসীর জীবন-জীবিকার একমাত্র উপায় পর্যটন শিল্প বাঁচিয়ে রাখার মাধ্যমে দ্বীপবাসীর মৌলিক ও মানবাধিকার রক্ষা এবং দ্বীপের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপের উপর অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশবাদী জালেমদের আরোপিত অবরোধ তথা পরিবেশবাদের নামে সব ধরণের সরকারি নিষেধাজ্ঞা তুলে দিতে নির্বাচিত সরকারের প্রতি আমরা জোর আহবান জানাচ্ছি।

