
সৌভিক পোদ্দার, ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানি ইউনিয়নের বেড়াদী গ্রামের তরুণ সমাজসেবক ও সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির গ্রামীণ সমাজে সচেতনতা বাড়াতে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি গ্রাম ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের মধ্যে শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা ও নৈতিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরছেন।

জানা যায়, জহুরুল ইসলাম জহির নিয়মিতভাবে গ্রামের অভিভাবকদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে উৎসাহিত করছেন। পাশাপাশি তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করছেন এবং যুবকদের মাঝে খেলার সামগ্রী বিতরণ করছেন। তার এই উদ্যোগে এলাকার অনেক তরুণ খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে এবং মাদক থেকে দূরে থাকার উৎসাহ পাচ্ছে। এছাড়াও সন্ধ্যার পর গ্রামের চায়ের দোকানে শিক্ষার্থীরা যাতে সময় নষ্ট করে আড্ডা না দেয়, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করছেন তিনি। শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনার টেবিলে বসে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে। এ বিষয়ে পরিবার ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছেন।
জহুরুল ইসলাম জহির ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানি ইউনিয়নের বেড়াদী গ্রামের মৃত আক্কাস আলীর ছেলে। পেশায় তিনি একজন সাংবাদিক পাশাপাশি একজন তরুণ সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা দিদার মিয়া (৭২) আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, জহুরুল ইসলাম জহির আমাদের গ্রামের মানুষদের নিয়ে অনেক ভাবেন। আমাদের এলাকার কোনো জনপ্রতিনিধিকেও কখনো এভাবে ভাবতে দেখিনি। তিনি মাঝেমধ্যে শহর থেকে ডাক্তার নিয়ে এসে গ্রামে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করেন। সেখানে আমরা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ পাই। এতে গ্রামের গরিব মানুষের অনেক উপকার হয়। জহুরুল সব সময় গ্রামের মানুষের খোঁজখবর রাখেন। কারো বিপদের কথা শুনলেই তিনি ছুটে গিয়ে তার পাশে দাঁড়ান।
কলেজপড়ুয়া হোসাইন বলেন, জহুরুল ভাই আমাদের গ্রামের যুবকদের নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করেন। খেলাধুলার সামগ্রীও উপহার দেন। এতে যুবসমাজ খারাপ পথ থেকে দূরে থাকে এবং ভালো কাজে উৎসাহ পায়। আমরা গ্রামের মানুষ ঠিক করেছি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমাদের হলিধানী ইউনিয়ন থেকে জহুরুল ভাইকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করাব।”
তিনি আরও বলেন, কারণ আমরা বিশ্বাস করি, জহুরুল ভাইয়ের মতো একজন মানুষ নেতৃত্বে এলে গ্রামের উন্নয়ন হবে এবং সাধারণ মানুষের কথা সত্যিকার অর্থে মূল্য পাবে।
জহুরুল ইসলাম জহির বলেন, আমি সব সময় চেষ্টা করি গ্রামের মানুষের পাশে থাকতে। আমাদের গ্রামে অনেক অসহায় ও দরিদ্র মানুষ আছে, যাদের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানোটা আমার দায়িত্ব মনে করি। তাই মাঝে মধ্যেই শহর থেকে ডাক্তার এনে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করি, যেন গ্রামের মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ পেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যুব সমাজ যেন মাদক বা খারাপ পথে না যায়, সেজন্য তাদের খেলাধুলার দিকে উৎসাহিত করি। বিভিন্ন সময় খেলাধুলার আয়োজন করি এবং খেলার সামগ্রী দেওয়ার চেষ্টা করি। তরুণদের ভালো কাজে যুক্ত রাখতে পারলে সমাজও ভালো থাকবে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্রামের মানুষ যদি আমাকে ভালোবাসা দিয়ে কোনো দায়িত্ব দিতে চান, তাহলে অবশ্যই আমি তাদের আশা ভরসার মর্যাদা রাখার চেষ্টা করব। মানুষের জন্য কাজ করাটাই আমার মূল লক্ষ্য।

