দেশের বিভিন্ন নদীপথে প্রায়ই লঞ্চ ডুবি ও ফেরি দুর্ঘটনার খবর শোনা যায়, যা জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। প্রতিনিয়ত লঞ্চঘাট ও ফেরিঘাটে যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। কিন্তু এসব দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপের অভাব স্পষ্ট বলে অভিযোগ উঠেছে সচেতন মহলের পক্ষ থেকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নৌযানগুলোর অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব, অপর্যাপ্ত তদারকি এবং ঘাট ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণেই অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে লাইফ জ্যাকেট, উদ্ধার নৌকা বা জরুরি সংকেত ব্যবস্থাও যথাযথভাবে থাকে না, যা দুর্ঘটনার সময় প্রাণহানির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়া ঘন কুয়াশা, বৈরী আবহাওয়া কিংবা রাতের অন্ধকারেও অনেক লঞ্চ ও ফেরি চলাচল করে, যেখানে প্রয়োজনীয় নেভিগেশন ব্যবস্থা থাকে না। ফলে সামান্য অসতর্কতাই বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিটি লঞ্চঘাট ও ফেরিঘাটে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যাত্রী ধারণক্ষমতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং নিয়মিত মনিটরিং বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। একইসঙ্গে দুর্ঘটনা মোকাবেলায় দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত টিম ও আধুনিক সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা জরুরি।
সাধারণ যাত্রীদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ভিড়যুক্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে না ওঠা এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা উচিত।
জনগণের প্রাণরক্ষা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে। নতুবা এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে এবং অমূল্য প্রাণহানি থামানো কঠিন হয়ে পড়বে।