
সৌভিক পোদ্দার, ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় ১ (এক) স্কুল ছাত্রীকে তুলে নিয়ে গিয়ে সঙ্গবদ্ধ হয়ে গণধর্ষণের অভিযোগে ২(দুই) যুবককে গ্রেফতার করেছে মহেশপুর উপজেলা থানা পুলিশ।
বুধবার সকালে মহেশপুর উপজেলার বাগদিয়ার সামন্তা এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২(দুই) জন কে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির হলেন মহেশপুর উপজেলার বাগদিয়ার গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে হযরত আলী (২০)একই উপজেলার সামন্তা চারাতলার পাড়ার আনোয়ার হোসেনের ছেলে আসের আলী ওরফে( রাজু)।
এর আগে মঙ্গলবারে ভুক্তভোগী স্কুল ছাত্রীর ফুফু বাদী হয়ে মহেশপুর উপজেলা থানায় ৪ (চার)জনকে আসামী একটি মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে গনধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং প্রাণনাশের ভয় দেখায়। এছাড়াও ওই ভিডিও নিয়ে অভিযুক্তরা এলাকায় প্রদর্শন করে ও আনন্দ উল্লাস করেছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ মার্চ (ছাব্বিশ) রাত ৮(আট) টার দিকে বাড়ির পাশের রাস্তার ওপর বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল ওই কিশোরী। তখন ২(দুই) যুবক ওই কিশোরীর বন্ধুকে মারধর করে তাকে পাশের একটি ঘাসখেতে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন আরও ২(দুই)যুবক। পরে তারা ওই স্কুলছাত্রীর হাত বেঁধে ও মুখ চেপে ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে অভিযুক্তরা। পরে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণের ঘটনা কাউকে জানালে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী কিশোরী বাড়িতে ফিরে পরদিন ঘটনাটি ফুফুকে জানালে তিনি অভিযুক্তদের কাছে ঘটনা জানতে চাইলে তারা তাকেও হত্যার হুমকি দেন। পরে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপ করে থানায় মামলা করেন ফুফু।
ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রী বলেন, ‘ওরা আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে সর্বনাশ করেছে। আমার পরিবারকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়েছিল, তাই ভয়ে কিছু বলিনি। কিন্তু ওরা নিজেরা সেই ভিডিও মানুষকে দেখিয়ে আনন্দ করছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
মামলার বাদী ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘সামাজিক মর্যাদা ও জীবনের ভয়ে আমরা প্রথমে চুপ থাকলেও অভিযুক্তরা ভিডিও নিয়ে লোকজনের কাছে দেখায়। তখন বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা করেছি।’
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘ভুক্তভোগীর ফুফু থানায় চারজনের নামে অভিযোগ করেন। পুলিশ তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে মামলা হিসেবে রেকর্ড করে। পরে পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ (দুই) যুবককে গ্রেফতার করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে হজরত আলীকে বুধবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং অন্য একজনকে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে পাঠানো হবে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’

