
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী তীর্থ স্নান যাত্রা।

প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন, কষ্টিপাথরের ‘গৈবি’ শ্রীশ্রী কালিমাতা মন্দিরের পাশে বলভদ্র নদীতে এই স্নান যাত্রাকে কেন্দ্র করে সমাগম ঘটে লক্ষ লক্ষ ভক্তের।
আজ ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার ভোর হতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা বলভদ্র নদীতে স্নান শুরু করেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, মাটির নিচ থেকে অলৌকিকভাবে উঠে আসা এই কষ্টিপাথরের কালিমাতা ও মহাদেব অত্যন্ত ‘জাগ্রত’। ভক্তরা শ্রদ্ধাভরে এই দেবীকে ‘গৈবি কালিমাতা’ বলে ডাকেন। তাদের বিশ্বাস, শুদ্ধচিত্তে এই নদীতে স্নান করলে মনের বাসনা পূর্ণ হয় এবং পাপমোচন ঘটে।
স্নান যাত্রা উপলক্ষে মন্দিরের পাশের খেলার মাঠে বসেছে বিশাল মেলা। মেলায় হরেক রকমের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। স্নান শেষ করে ভক্তদের ঐতিহ্যবাহী খাবার—দই, চিড়া, খই, মুড়ি, কলা ও গুড় দিয়ে জলযোগ করতে দেখা যায়। এছাড়া মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে আগত সকল ভক্তদের মাঝে খিচুড়ি প্রসাদ বিতরণ করা হচ্ছে।

বিপুল এই জনসমাগমকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মেলা ও স্নান ঘাট এলাকায় সেনাবাহিনী এবং পুলিশ সদস্যদের সতর্ক নজরদারিতে থাকতে দেখা গেছে।
স্থানীয় এক ভক্ত সজল চন্দ্র শীল বলেন, “আমরা প্রতি বছরই এখানে আসি। মাটির নিচ থেকে উঠা এই মায়ের কাছে প্রার্থনা করলে শান্তি পাওয়া যায়।
প্রশাসনের নিরাপত্তার কারণে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে পূজা ও স্নান সারতে পেরেছি।”
সকাল থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব ও মেলা চলবে আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত। বলভদ্র নদীর তীরের এই ধর্মীয় আবহ এখন পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।

