
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর গ্রামে দুই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষে এক মসজিদের ইমামসহ অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বিশাল বহর মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিহতরা হলেন—গোয়ালনগর গ্রামের হাছন আলীর ছেলে মো. আক্তার মিয়া (৪৫) এবং হান্নান মিয়ার ছেলে মো. হাবিবুর রহমান (৩৫)। হাবিবুর রহমান স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঝগড়া থামাতে গিয়ে তিনি বুকে ও মাথায় টেঁটাবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক জালভোটের সন্দেহ ও ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ ফসলি জমিতে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, একটি পক্ষ সংঘাতের শক্তি বাড়াতে অন্য এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক ‘ভাড়াটে লোক’ নিয়ে আসে, যার ফলে সংঘর্ষের ভয়াবহতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
সংঘর্ষে বিপুল সংখ্যক লোক অংশ নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। পরবর্তীতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং দোষীদের ধরতে বিশেষ অভিযান ও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজহারুল হক জানান, মূলত জালভোট নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকে এই মারামারির সূত্রপাত। বহিরাগতদের অংশগ্রহণের কারণেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ্ মো. আব্দুর রউফ মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমকে জানান, “ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। আমরা পুরো এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছি এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।”
আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কড়া নজরদারি রাখছে।

