গত ৩ ও ১৬ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে দৈনিক জন জাগরণ পত্রিকা ও পোর্টালে প্রকাশিত, ‘‘প্রকৃত ওয়ারিশদের বঞ্চিত করে কোটি, জমির বৈধ মালিকদের ভোগদখল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা’’ শিরোনামে সংবাদটি আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে। সংবাদটিতে উল্লেখিত তথ্য মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমি এই মিথ্যা সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
সংবাদটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে,
প্রকৃত ওয়ারিশদের বঞ্চিত করে কোটি টাকার বিপুল পরিমাণ জমি দখল ও বিক্রির পাঁয়তারা করছে একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র। বিভিন্ন মিথ্যা মামলা, তথ্য গোপন ও জালিয়াতির মাধ্যমে তাদের বৈধ সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণে তারা বর্তমানে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সিএস দাগ নং ৩৪৭৪, আরএস দাগ নং ১০১৮৮ এবং সিটি দাগ নং ৪৪০০৩ ও ৪৪০০৪-এ মোট জমির পরিমাণ প্রায় ১৩.৩৯ একর। সিএস খতিয়ান নং ২৬ ও ১(ক) অনুযায়ী জমির রেকর্ডভুক্ত মালিক ছিলেন ইয়াসিন মাদবর। জানা যায়, ১৯২৭ সালের ৮ মার্চ সহায় দলিল নং ১৬৪৪ অনুযায়ী ইয়াসিন মাদবর ও তমর উদ্দিন শেখের মধ্যে এয়াজবদল সম্পন্ন হয়। সে সময় ইয়াসিন মাদবরের খতিয়ান নং ২৬ এবং তমর উদ্দিন শেখের খতিয়ান নং ৩৯ ছিল।
পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের ৯ জানুয়ারি দলিল নং ৩৪২ অনুযায়ী ইয়াসিন মাদবরের পরিবার থেকে ৩২ ও ৩৪ দাগে মোট ৬৪ শতাংশ জমি মধু ব্যাপারীর কাছে বিক্রি করা হয়। পরে হাফেজ আলী তার জামাই মধু ব্যাপারীর কাছে আরও ৪৪ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। ফলে মোট ১০৮ শতাংশ জমি ওই সময়ে বিক্রি হয়।
এ হিসাবে মূল ১৩.৩৯ একর জমি থেকে ১০৮ শতাংশ বাদ দিলে অবশিষ্ট থাকে প্রায় ১২.৩১ একর জমি। পরে ১৬৪৪ নং দলিল অনুযায়ী ইয়াসিন মাদবর আরও ৬১ শতাংশ জমি লাভ করেন, ফলে তার মোট জমির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২.৯২ একর।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ১৯৫৮ সালে ৭৯ নং একটি মামলায় জমির পরিমাণ ২২.৮৪ একর দেখিয়ে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়, যা প্রকৃত হিসাবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অভিযোগকারীদের দাবি, মামলাটি ছিল সাজানো এবং এতে প্রকৃত ওয়ারিশদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয়।
এছাড়া দেওয়ানি মামলা নং ১৯৭/২০১৪-তেও ইয়াসিন মাদবরের একমাত্র পুত্র হিসেবে হাফেজ আলীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে অন্যান্য বৈধ ওয়ারিশদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, হাফেজ আলীর মৃত্যুকালে তার তিন পুত্র—রহম আলী মাদবর, দুদু মিয়া এবং একটি কন্যা করফুন নেছা ছিলেন। আবার ১৯ মে ১৯৬৬ সালের দলিল নং ৭৯৫৯ অনুযায়ী হাফেজ আলীর চার পুত্র—দুদু মিয়া, মধু মিয়া, ওহাব আলী ও রহম আলীর নামও পাওয়া যায়।
ইয়াসিন মাদবরের কন্যা গোলাপজান বিবি তার প্রাপ্য ১৫০ শতাংশ জমি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দাগ নং ৩২৩৯, ৩২৪২ ও ৩৪৭৪-এ প্রায় ৩৮ শতাংশ জমির মালিকানা গোলাপজান বিবির বলে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে তার ওয়ারিশরা উক্ত জমির ভোগদখলে রয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রও তাদের নামে হালনাগাদ রয়েছে।
কিছু অসাধুচক্র গণমাধ্যমকর্মীদের ভূল তথ্য দিয়েছে বলে আমি মনে করি। সংবাদটিতে উল্লেখিত তথ্য মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমি এই মিথ্যা সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং বস্তুনিষ্ঠ, সঠিক ও সত্যি সংবাদকে স্বাগত জানাই।