বিকেলের শেষ আলো ফিকে হতে না হতেই মাইক হাতে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলেন এক তরুণ। তার কণ্ঠে ভেসে আসে আমন্ত্রণ। ভাই, ইফতার করে যান আজও আপনাদের জন্য ইফতারের আয়োজন আছে। এই কণ্ঠের মানুষটি ঝিনাইদহ শহরের গীতাঞ্জলি সড়কের ব্যবসায়ী সৌরেশ পোদ্দারের ছেলে সৌভিক পোদ্দার এর। সনাতন ধর্মাবলম্বী হয়েও রমজানজুড়ে শ্রমজীবী মুসলমান ভাই ঙবোনদের ইফতারের দাওয়াত দিয়ে চলেছেন তিনি। ধর্মের ভিন্নতা তাকে আলাদা করেনি। বরং মানবিকতার বন্ধনে যুক্ত করেছে পুরো শহরের সঙ্গে। তার কণ্ঠের আহ্বান যেন কেবল ইফতারের দাওয়াত নয়। এটি সম্প্রীতি, সহমর্মিতা আর ভালোবাসার ডাক।
শহরের ভ্যানচালক, রিকশাচালক, দিনমজুর যারা সারাদিন রোদে-ঘামে পরিশ্রম করেন, তাদের অনেকেই সময়মতো ইফতার করতে হিমশিম খান। সেই মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটাতেই সৌভিকের এই ব্যস্ততা। বিকাল থেকে শুরু হওয়া তার মাইকিং চলে ইফতারের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত।
এই আয়োজনের পেছনে রয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ইয়ুথ সান, ঝিনাইদহ’। শহরের ওয়াজির আলী স্কুল মাঠে রমজান মাসজুড়ে কয়েকশত নিম্নআয়ের নারী পুরুষের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইফকারে থাকে প্রতিদিন খেচুড়ি ও মুরগীর মাংস। কোন দিন আবার এর সাথে থাকে দুই পিচ খেজুর একটি চপ ও একটি বেগুনি।
ইফতার করতে আসা অনেক শ্রমজীবী মানুষের চোখেমুখে কৃতজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট দেখা যায়। কেউ বলেন, কাজ শেষে নিশ্চিন্তে এখানে এসে ইফতার করতে পারি। কেউ আবার বলেন, এই আয়োজন না থাকলে হয়তো অনেক দিন শুধু পানি দিয়েই রোজা ভাঙতে হতো।
আশরাফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম থেকে আমি শহরে কাজে এসেছিলাম কাজ শেষ করতে অনেক দেরি হয়ে যায়। ইফতারের আগে বাড়ি ফিরা সম্ভব হবে না। এমন সময় মাইকে স্কুল মাঠে ইফতারের আয়োজনের কথা শুনে এখানে ইফতার করতে এসেছি।
সৌভিক পোদ্দার বলেন, শ্রমজীবী মানুষগুলো সারাদিন কষ্ট করেন। তাদের একবেলা ইফতার করাতে পারলে ভেতরে একটা শান্তি পাই। এটা কোনো দান নয়, এটা ভালোবাসা।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাকিবুল হাসান বাপ্পি জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছি অন্তত রমজান মাসে শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়াতে। তাদের একবেলা ইফতার করাতে পারলে আমাদের কষ্ট সার্থক মনে হয়। তিনি বলেন, পুরো মাসি বেবি চলবে আমাদের এই আয়োজন। দুপুর হলে আমরা রান্নার কাজ শুরু করে দিই। এ কাজে আমাদের অনেক বন্ধুরা সহযোগিতা করে। নিজেদের অর্থ দিয়েই আমরা এই ইফতারের আয়োজন করে থাকি আবার কিছু ব্যক্তি আছেন তারা এ কাজে তাদের সাধ্যমত চাল ডাল দিয়ে শরিকও হন।