
মোঃ জাহিদ হোসেন জিমু-গাইবান্ধা :
“নারীর ক্ষমতায়নে বিনিয়োগ এবং সমতার পথে অগ্রযাত্রা”প্রতিবাদ্যকে সামনে রেখে আর্ন্তজাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গাইবান্ধায় মানববন্ধন কমসূচি পালিত হয়েছে। মানববন্ধন শেষে ডিবি সড়কে র্যালী বের করে তারা। শহর প্রদক্ষিণ করে গানাসাস মাকেটের গিয়ে শেষ হয়।
আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১ টারদিকে ডিবি সড়কের আসাদুজ্জামান মার্কেটের সামনে এই কমসুচি পালিত হয়। বেসরকারি সংস্থা এসকেএস ফাউন্ডেশনের র্স্মাট প্রকল্পের গাইবান্ধা পরিবেশ ক্লাব এই আয়োজন করেন। মানববন্ধনে পরিবেশ ক্লাবের সদস্যরা ও সামাজিক সংগঠন ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সমাজে নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে কর্মসূচিতে বক্তাব্য দেন, পরিবেশ ক্লাবের সভাপতি গোলাম রাব্বানী মুসা, সাধারণ সম্পাদক অরচো প্রসাদ, শিরিন আকতার সম্পাদক উদীচী গাইবান্ধা, সাংগঠনিক সম্পাদক অন্জলি রানী দেবী, দূবার বিকাশিত নারী নেটওয়াক জেলা প্রতিনিধি মাজেদা আকতার কল্পনা, কান্ডারি মহিলা উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সেলিনা আকতার সোমা, পিএফজির মিতা হাসান, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম(রফিক খন্দকার), আফরুজা লুনা, পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি ওয়াজিউর রহমান র্যাফেল, সামজিক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক জাহাঙ্হীর করিব তনু, এনজিও হাব সহ-সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন সুইট,সোমা ইসলাম প্রমূখ।
বক্তারা আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৮৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সুতা কারখানার নারী শ্রমিকরা মজুরি বৈষম্য, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা এবং অমানবিক কর্মপরিবেশের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিলেন। সেই আন্দোলনকে দমন করতে সরকার লেঠেল বাহিনী প্রয়োগ করেছিল।
১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে বিশ্বজুড়ে এটি নারী অধিকার, সমতা ও ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে পালিত হচ্ছে। “Give to Gain” প্রতিপাদ্যটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে নারীর ক্ষমতায়নে বিনিয়োগ করা মানে নারীকে এগিয়ে দেওয়া নয় বরং একটি পরিবার, সমাজ এবং দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
নারীরা যখন শিক্ষা, উদ্যোক্তা কার্যক্রম, নেতৃত্ব এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পান, তখন তারা কমস্ংস্থান সৃষ্টি করেন, সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করেন। নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে হবে। অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে।নারীরা এগিয়ে গেলে পরিবার, সমাজ ও দেশ সমৃদ্ধ হবে। নারীর অধিকার নিশ্চিত করা, কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং সহিংসতা ও বৈষম্য বন্ধ করতে হবে।

