
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় এক সময় সেচ সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ইউনিয়নে জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। বিশেষ করে বোরো আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় পানির অভাবে কৃষকরা চাষাবাদে আগ্রহ হারাতেন। তবে চলতি মৌসুমে সেই চিত্র বদলে গেছে। কৃষি বিভাগের সময়োপযোগী উদ্যোগ ও মাঠপর্যায়ের নিবিড় তদারকিতে উপজেলায় এবার গমের আবাদে বিপ্লব ঘটেছে।
অনাবাদি জমিতে নতুন প্রাণের স্পন্দন উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, এ বছর শ্রীরামপুর, শিবপুর, ইব্রাহিমপুর, রছুল্লাবাদ, বড়িকান্দি, সাতমোড়া ও জিনদপুর ইউনিয়নে নতুন করে প্রায় ৫৫ হেক্টর জমি গম চাষের আওতায় এসেছে। বর্তমানে পুরো উপজেলায় মোট ৪০৫ হেক্টর জমিতে গম চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে শাহপুর ও রতনপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে এমনকি একটি মাঠেই প্রায় ৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে গমের সমারোহ দেখা গেছে।
সফলতার নেপথ্যে কৃষি বিভাগ ও উচ্চফলনশীল জাত
সেচ সংকট মোকাবিলা করে এই অর্জনের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। তাদের নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও কৃষকদের বিকল্প ব্যবস্থার পরামর্শে উদ্বুদ্ধ করার ফলে এই সাফল্য এসেছে। আবাদের ক্ষেত্রে কৃষকরা প্রাধান্য দিচ্ছেন উচ্চফলনশীল ও রোগ সহনশীল জাতকে। এর মধ্যে বারি গম ৩৩ এবং WMRI-২ জাত দুটি এবার অত্যন্ত ভালো ফলন দিচ্ছে।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন:
“সেচ–সংকট থাকা সত্ত্বেও আমরা সময়মতো পরামর্শ, বিকল্প ব্যবস্থা এবং মাঠ পর্যায়ের তদারকির মাধ্যমে নতুন জমি আবাদে আনতে পেরেছি। কৃষকরাও এখন গম চাষে বেশ আগ্রহী হচ্ছেন। ফলন ভালো হওয়ায় তারা লাভবান হবেন বলে আমরা আশাবাদী।”
গমের এই জয়যাত্রাকে অব্যাহত রাখতে আগামী মৌসুমের জন্য উন্নত জাতের বীজ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে কৃষি বিভাগ। বড়িকান্দি, রতনপুর, ইব্রাহিমপুর ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪ টন বীজ সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গমের এই ফলন বৃদ্ধি স্থানীয় কৃষকদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি এলাকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

