
সৌভিক পোদ্দার-ঝিনাইদহ :
ঝিনাইদহে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় নিজের একমাত্র ছেলেকে ত্যাজ্য পুএ ঘোষণা করেছেন আবু জাফর নামে এক কৃষক দল নেতা।
গত সোমবার ঝিনাইদহে জেলা নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে এক হলফনামায় মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন তিনি। পরে বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটী ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মো. আবু জাফর (৪৮) ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর একমাত্র ছেলে মো. নাহিদ হাসান সবুজকে (২৪) অবাধ্যতা ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার কারণে তাকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেছেন। সবুজ ঝিনাইদহের সরকারি কেশবচন্দ্র (কেসি) কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
হলফনামায় মো. আবু জাফর উল্লেখ করেন, ‘আমার পুত্র মো. নাহিদ হাসান সবুজ আমার কথামতো চলে না বা আমার বাড়িতেও বর্তমানে থাকে না। সে তার মতো আলাদা থাকে এবং আমি তার কোনো আয় রোজগার গ্রহণ করি না। আমার পুত্র মো. নাহিদ হাসান সবুজ বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিষিদ্ধ সংগঠন ঝিনাইদহ জেলা সরকারি কেশবচন্দ্র কলেজের ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় ছাত্রলীগের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করাসহ গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের কার্যক্রম পুনরায় চালু করায় তাকে আমার বাড়ি হইতে তাড়াইয়া দিয়াছি।’
হলফনামায় তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘সে কোথাও কোনো খারাপ কাজের সহিত জড়িত হইলে আমি বা আমার পরিবারের কেহ দায়ী নহে। তাহার কোনো কাজের জন্য আমি বা আমার পরিবারের লোকজন দায়ী থাকিবে না। আমি তাহাকে অদ্য হইতে ত্যাজ্য পুত্র ঘোষণা করিলাম। অদ্য হইতে তাহার সহিত আমার বা আমার পরিবারের সদস্যদের কোনো সম্পর্ক থাকিবে না।’
এইদিকে নাহিদ হাসান সবুজ এক আবেগঘন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘বাবা তোমার প্রতি আমার কোন অভিযোগ নাই। কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা অস্তিত্বের প্রশ্নে ছাত্রলীগের সাথে আপসহীন ছিলাম, আছি এবং আমৃত্যু থাকবো ইনশাআল্লাহ। ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’

