
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া :
”মৌমাছি, মৌমাছি, কোথা যাও নাচি নাচি, দাঁড়াও না একবার ভাই…”— কবি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের কবিতার সেই চিরচেনা দৃশ্য এখন বাংলার প্রকৃতিতে জীবন্ত। শীতের জড়তা কাটিয়ে প্রকৃতিতে যখন বসন্তের আগমন ঘটেছে, তখনই ডানা মেলেছে হাজারো মৌমাছি।
বনের নিভৃত কোণ থেকে শুরু করে বাগানের শোভাবর্ধনকারী ফুল— সর্বত্রই এখন তাদের গুঞ্জন।
বিরামহীন পথচলা কবিতার সেই চরণের মতোই মৌমাছিদের যেন এখন ‘দাঁড়াবার সময় নেই’।
ভোরের সূর্য ওঠার সাথে সাথেই তারা বেরিয়ে পড়ছে মধু সংগ্রহের নেশায়। মৌয়াল ও কৃষিবিদদের মতে, বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষ করে লিচু, সরিষা এবং বিভিন্ন বনজ ফুলের সমারোহ থাকে। ফলে মৌমাছিরা তাদের চাক গড়তে এবং মধু সঞ্চয়ে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অগ্রদূত মৌমাছিরা কেবল মধু সংগ্রহই করছে না, বরং পরাগায়ণের মাধ্যমে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় পালন করছে প্রধান ভূমিকা।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে
ফলন বৃদ্ধি মৌমাছির বিচরণে ফসলের ফলন ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
জীববৈচিত্র্য পরাগায়ণের ফলে টিকে থাকছে বিরল অনেক উদ্ভিদ প্রজাতি।
মৌ-চাষিদের মুখে হাসি
প্রকৃতিতে ফুলের আধিক্য থাকায় এবার মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন মৌ-চাষিরা।
তারা জানাচ্ছেন, প্রাকৃতিক বনগুলোতে এখন মৌমাছিদের কর্মতৎপরতা তুঙ্গে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
”নাহলে কি চলে দিন, কাজেতে হইব লীন”— কবিতার এই সারমর্ম মেনে মৌমাছিরা আমাদের শিখিয়ে দিচ্ছে সময়ের মূল্য আর কর্মনিষ্ঠা। প্রকৃতির এই খুদে কারিগরদের কলতানে এখন মুখরিত চারপাশ।

