
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় নতুন জাতের ‘সানশাইন’ আলু চাষে ব্যাপক সাফল্য দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) উদ্ভাবিত এই উচ্চফলনশীল জাতটি চাষ করে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আলুর প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নবীনগরের প্রায় ২৮৫ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রদর্শনী প্লটগুলোতে আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও নতুন জাতের কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে।
মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ট্রায়ালে দেখা গেছে, প্রতি শতাংশে আলুর গড় ফলন প্রায় ৩ মণ। এই জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
আকর্ষণীয় রং ও সমান আকার: আলুর আকার সুষম হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা বেশি।
প্রচলিত জাতের তুলনায় ফলন অনেক বেশি। উজ্জ্বল রঙের কারণে পাইকারি বাজারে দ্রুত ক্রেতাদের নজর কাড়ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো উন্নত জাত, সুষম সার ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত বালাই দমন পদ্ধতি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। তিনি বলেন, “মাটি ও আবহাওয়া সানশাইন জাতের জন্য বেশ উপযোগী। কৃষকরা সরাসরি ফলন দেখে এই জাত গ্রহণে উৎসাহিত হচ্ছেন।”
প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শনকালে কৃষকরা জানান, আলুর বৃদ্ধি ও কন্দের আকার খুবই সন্তোষজনক। ফলন ভালো হওয়ায় তারা আগামী মৌসুমে আরও বড় পরিসরে এই আলু চাষের পরিকল্পনা করছেন। সঠিক বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে আলুর উৎপাদন বৃদ্ধিতে এই জাতটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

