
জুলফিকার আলী জুয়েল :
গাজীপুরের বাঘিয়া শিকদার মার্কেট এলাকায় গড়ে ওঠা “আদর্শ ফুড প্রোডাক্টস” নামের একটি মুড়ি তৈরির কারখানাকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে। মাত্র এক মাস চারদিন আগে চালু হওয়া এই কারখানাটি প্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি সরকারি অনুমোদন ছাড়াই উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে তৈরি মুড়ি বিভিন্ন এলাকায় বাজারজাত করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ বাড়ছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, কারখানাটির ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন, ফায়ার সেফটি এবং ট্রেডমার্ক থাকলেও নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, স্বাস্থ্য সনদ, ডিআইএফই (DIFE) কর্তৃক ফ্যাক্টরি লাইসেন্স এবং বিন (BIN) নিবন্ধন। বিএসটিআই অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হলেও এখনো অনুমোদন মেলেনি। অথচ এসব বাধ্যতামূলক অনুমোদন ছাড়াই উৎপাদিত খাদ্যপণ্য বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানার কাগজপত্রে অটো মেশিন ব্যবহারের কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে লাকড়ির চুলা ব্যবহার করে মুড়ি উৎপাদন করা হচ্ছে। এতে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বায়ুদূষণের শিকার হচ্ছেন। এছাড়া কারখানার ভেতরে নেই স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ; অপরিচ্ছন্ন ও খোলামেলা জায়গায় মুড়ি প্যাকেটজাত করা হচ্ছে, যেখানে খাদ্য নিরাপত্তা বিধিমালা মানার কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি।
খাদ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মুড়ি একটি শুকনো খাবার হওয়ায় মানুষ সাধারণত ধুয়ে খান না। ফলে উৎপাদন ও প্যাকেটজাতকরণের সময় স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘিত হলে তা সরাসরি ভোক্তাদের শরীরে ক্ষতিকর জীবাণু প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি করে, যা বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে। এ অবস্থায় লাইসেন্সবিহীন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদিত মুড়ি বাজারজাত হওয়াকে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে কারখানার মালিক মো: আইয়ুব আলী মোল্লার কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি ও উৎপাদন পদ্ধতির বিষয়গুলো স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রশাসনের নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অব্যবস্থাপনার মধ্যেই খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ চলতে থাকবে, যা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়াবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। নইলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাদ্যপণ্য নীরবে ছড়িয়ে পড়বে বাজারে, আর ঝুঁকির মুখে পড়বে সাধারণ ভোক্তারা।

