বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দলীয় কাঠামোকে শক্তিশালী করার বিষয়টি এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক ছাত্রনেতা নাসির উদ্দিন খোকন। তিনি মনে করেন, শক্তিশালী সরকার গঠনের পর দলকে সুসংগঠিত রাখা না গেলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত হতে পারে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গঠনের পর প্রশাসনিক কার্যক্রম যেমন গতিশীল হয়েছে, তেমনি দলীয় কার্যক্রমকেও সমানভাবে শক্তিশালী করা জরুরি বলে মনে করছেন নেতারা। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা রয়েছেন, তাদের অধিকাংশই বিএনপির রাজনীতির ভেতর থেকে উঠে আসা—এ বিষয়টি উল্লেখ করে খোকন বলেন, “সরকার ও দলের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে এগিয়ে যেতে না পারলে অর্জন ধরে রাখা কঠিন হবে।”
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “দলকে শক্তিশালী করতে হলে প্রথমেই সাংগঠনিক কাঠামো ঢেলে সাজাতে হবে। তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত কমিটিগুলোকে কার্যকর, গতিশীল ও গ্রহণযোগ্য করতে হবে।”
এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও সরকারের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ-এর বক্তব্যের সঙ্গেও একমত পোষণ করেন খোকন। তিনি বলেন, সরকার যেমন শক্তিশালী হয়েছে, ঠিক তেমনি দলকেও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।
নাসির উদ্দিন খোকন আরও জোর দিয়ে বলেন, নতুন নেতৃত্ব তৈরির কোনো বিকল্প নেই। “তরুণদের সামনে নিয়ে আসতে হবে, তাদের প্রশিক্ষণ ও রাজনৈতিক চর্চার সুযোগ দিতে হবে। আগামী দিনের নেতৃত্ব তৈরি না করলে দল দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল হয়ে পড়বে,”—বলেন তিনি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তিনি দলীয় শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তার ভাষায়, “যে কমিটিই গঠন করা হোক না কেন, সেখানে যেন কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা বিতর্কিত ব্যক্তির স্থান না হয়। দলকে পরিচ্ছন্ন ও জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে নেতাকর্মীরা প্রত্যাশা করছেন। দক্ষ, গ্রহণযোগ্য এবং পরীক্ষিত নেতৃত্বের সমন্বয়ে দলকে নতুনভাবে সাজানো সম্ভব বলেও তিনি মনে করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও খোকনের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বলছেন, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উঠে আসা বিএনপির জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং সাংগঠনিক ভিত্তিকে শক্ত করা। তারা মনে করেন, সরকার শক্তিশালী হলেও দল দুর্বল হলে সেই শক্তি টেকসই হবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলীয় কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস, নতুন কমিটি গঠন এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি অভিজ্ঞ ও নবীন নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি কার্যকর ও গতিশীল কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও গুরুত্ব পাচ্ছে।
সর্বোপরি, সাবেক ছাত্রনেতা নাসির উদ্দিন খোকনের মতে—“সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে পারলেই বিএনপি একটি টেকসই, জনমুখী ও কার্যকর রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেশের রাজনীতিতে আরও দৃঢ় অবস্থান তৈরি করতে পারবে।”