
মাসুম বিল্লাহ-খুলনা :
যথাযোগ্য মর্যাদা, বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে খুলনায় পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬। অমর একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে মহানগরীর শহিদ হাদিস পার্কের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদনের চিত্র: একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের স্মরণে শহিদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান খুলনা বিভাগীয় কমিশনার এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। এরপর পর্যায়ক্রমে পুলিশের ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার এবং জেলা পুলিশ সুপার শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ), মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, খুলনা প্রেসক্লাব এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মহানগর ও জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং জাসদ, সিপিবি ও ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীরা শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। রাত বাড়ার সাথে সাথে সাধারণ মানুষের ঢল নামে শহিদ হাদিস পার্কে। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের সুর ও ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ: সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সঠিক নিয়মে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ: বেলা ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে ‘ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার। আলোচনা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী: সন্ধ্যায় শহিদ হাদিস পার্কে জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং অমর একুশের বিশেষ পোস্টার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এছাড়াও জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে একুশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
বিশেষ প্রার্থনা: জোহর নামাজের পর কালেক্টরেট জামে মসজিদসহ নগরীর সকল মসজিদে ভাষা শহিদদের রুহের মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
অন্যান্য আয়োজন
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরভবনে শিক্ষার্থীদের জন্য চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে চলমান বইমেলাতেও ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এছাড়াও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) পৃথক পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে।
ভাষার সম্মান রক্ষায় একুশের চেতনাকে ধারণ করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে খুলনায় দিনটি অতিবাহিত হয়।

