
নিজস্ব প্রতিনিধি :
চার দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও পরিশ্রম—সবকিছুর পরও প্রত্যাশিত বিজয় হাতছাড়া হওয়ায় হতাশায় ডুবে আছেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন-এর সমর্থকরা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি-এর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে শুরুতে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ফলাফলে নাটকীয় পরিবর্তনে পরাজিত হন তিনি।
📊 সকালের আগ পর্যন্ত এগিয়ে ছিলেন মিল্টন
দলীয় সূত্র ও মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শেষে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত অধিকাংশ কেন্দ্রে এগিয়ে ছিলেন মিল্টন। এমনকি রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে তার বিজয় প্রায় নিশ্চিত বলে ধরে নিয়ে নেতাকর্মীরা আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেন এবং মিষ্টি বিতরণও করেন।
বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, প্রায় ৩০ থেকে ৩২ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন তিনি।
⚡ হঠাৎ ফলাফল বদল, বিজয়ী ঘোষণা জামায়াত প্রার্থী
কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে যায় সকাল ১০টার দিকে। হঠাৎ করেই ঘোষণা আসে, শফিকুর রহমান—যিনি জামায়াতের আমির—তিনি বিজয়ী হয়েছেন। এই ঘোষণায় বিস্ময় ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে।
❗ ‘অদৃশ্য শক্তি’র অভিযোগ
বিএনপি নেতাকর্মীদের একাংশ মনে করছেন, এই ফলাফল স্বাভাবিক নয়। তাদের ভাষায়, “কোনো এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে” নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে।
তাদের দাবি—
গণনার শেষ পর্যায়ে অস্বচ্ছতা ছিল
প্রকৃত ফলাফল প্রকাশ পায়নি
প্রশাসনিক বা অদৃশ্য প্রভাব থাকতে পারে
যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, তবুও তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ ও প্রশ্ন রয়ে গেছে।
🕊️ দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতি চান নেতাকর্মীরা
দলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, প্রায় ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে মিল্টন যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা কোনোভাবেই উপেক্ষিত হওয়া উচিত নয়। তারা আশা প্রকাশ করেন—
“দেশ ও জাতির কল্যাণে তার অবদান ইতিহাস একদিন অবশ্যই মূল্যায়ন করবে।”
একই সঙ্গে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের জন্য একটি সম্মানজনক অবস্থান দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
🙏 আশা ও বিশ্বাসে অটল সমর্থকরা
সব হতাশার মাঝেও নেতাকর্মীরা আশাবাদী। তাদের বিশ্বাস—
সত্য ও ন্যায়ের বিজয় একদিন নিশ্চিত হবে
মহান আল্লাহ তায়ালা তার ত্যাগের উত্তম প্রতিদান দেবেন
খুব শিগগিরই কোনো ইতিবাচক সুসংবাদ আসতে পারে
📌 উপসংহার
নির্বাচনের এই নাটকীয় ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি-এর তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে যেমন হতাশা, তেমনি রয়েছে প্রত্যাশা—দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতার যথাযথ মূল্যায়ন যেন ভবিষ্যতে নিশ্চিত করা হয়।

